কুড়িগ্রাম সংবাদ ডেস্ক:
উত্তরের বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ব্রাকসু নির্বাচন। দীর্ঘদিনের দাবি, আন্দোলন, অনশন শেষে অর্জিত এই নির্বাচনী নীতিমালা শিক্ষার্থী সমাজে নতুন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী থেকে সাধারণ ভোটার সবাই এখন নির্বাচনী উত্তেজনায় মেতে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা।
তবে এ উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝেই সামনে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসন্ন ব্রাকসু নির্বাচনে নারী নেতৃত্ব কি সংকটে পড়ছে?
নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম, উদ্বেগ বাড়ছে: ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর প্রণীত “বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদসমূহের গঠন ও পরিচালনা বিধিমালা, ২০২৫”এ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশই এই সংসদের মূল লক্ষ্য।
কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নীতিমালা ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য পুরুষ প্রার্থীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকলেও নারী প্রার্থীদের তেমন সক্রিয়তা চোখে পড়ছে না। ফলে ব্রাকসু নির্বাচনে নারী নেতৃত্বের স্বল্পতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।
নারী নেতৃত্বে অনীহার সম্ভাব্য কারণ: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিমত অনুযায়ী নারী প্রার্থী কম হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করছে।
1. নারীদের মতামত ও অবস্থানকে গুরুত্ব না দেওয়া।
2. যৌন ও মানসিক হয়রানির ভয় – অনলাইন ও অফলাইনে।
3. মানহানিকর পোস্ট, ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা।
4. পারিবারিক বিধিনিষেধ ও সামাজিক বাঁধা।
5. নারীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার অনীহা ও আত্মবিশ্বাসহীনতা।
6. ক্যাম্পাস পরিবেশের ক্রমবর্ধমান অনিরাপত্তা।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর নারীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যা নারী নেতৃত্ব সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে বড় সংকটের আশঙ্কা : যদি নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এমনভাবেই কমে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি কাঠামোতে নারীদের উপস্থিতি আরও ক্ষীণ হয়ে পড়তে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি, কর্মকাণ্ড বা নারী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন–দাবি নিয়ে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।
নারী নেতৃত্বের সংকট কেবল নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশকে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কম অনুকূল করে তুলতে পারে।
ব্রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে নতুন রাজনৈতিক চেতনা ও ছাত্র–অংশগ্রহণের জোয়ার তৈরি হয়েছে, তার অংশ হিসেবে নারীদের সমানভাবে সামনে আসা সময়ের দাবি। নেতৃত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় নারী নেতৃত্বকে সক্রিয় ও নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী সমাজ এবং সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব।
রেদওয়ানাতুল জান্নাত
শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর
Leave a Reply