1. atik@kurigramsongbad.com : atik :
  2. editor1@kurigramsongbad.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
  3. sifat@kurigramsongbad.com : sifat :
  4. siteaccess@pixelsuggest.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
সাম্প্রতিক :
ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকসেবীর এক মাসের কারাদণ্ড ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধন, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভূরুঙ্গামারীতে প্রথম হাসি প্রজেক্টের ক্যপাসিটি বিল্ডিং ওয়ার্কশপ ভূরুঙ্গামারীতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার বার্তা ভূরুঙ্গামারীতে মাদক প্রতিরোধে মানববন্ধন ভূরুঙ্গামারীতে ১৭৪০ মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস করল প্রশাসন ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানে গাঁজার গাছ সহ মাদককারবারি আটক জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ে কুড়িগ্রামে সেরা নাগেশ্বরী, সম্মাননা পেলেন নার্স নাজমা দুধকুমার নদে সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ২ হাজার ৫০০ মিটার চায়না জাল ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় গরু সহ ৩ যুবক গ্রেপ্তার

প্রেমের বিয়ের পর প্রতারণার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চাইলেন টাঙ্গাইলের যুবক

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম সংবাদ ডেস্ক:

প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে, এরপর ১২ লাখ টাকা লেনদেন, চেক ডিজঅনার, দাম্পত্য বিচ্ছেদ এবং একাধিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বিন্দুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নূর আলম মিয়া (২৫)। তিনি বর্তমানে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে অধ্যয়নরত।

সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া মৌখিক অভিযোগে নূর আলম মিয়া বলেন, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসাইল উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামসুল মিয়ার মেয়ে সাদিয়া আক্তারের (২১) সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক ভালোবাসার সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়।

তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন যে, বিয়ের আগে তার স্ত্রী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তাকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত ঘটনার কথাও জানান। তিনি অভিযোগ করেন, স্ত্রী পূর্বে ‘তাওহিদ’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সারারাত বাইরে অবস্থান করেছিলেন। এ বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি তা স্বীকার করেছিলেন বলেও অভিযোগকারীর দাবি। তবে এসব ঘটনা জানার পরও অতীতের বিষয় বিবেচনায় না এনে তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন এবং স্ত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সংযত থাকতে উৎসাহিত করেন।

নূর আলম মিয়ার অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনের কয়েক মাস পর তার স্ত্রী গর্ভবতী হন। পরে স্ত্রীর অনুরোধে তাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসা হয়। সেখানে অবস্থানকালে তাকে কিছু না জানিয়েই গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তার মোবাইল ফোনে ‘তাওহিদ’ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য দেখতে পান। বিষয়টি শ্বশুরকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। এরপর উভয় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানান তিনি।

অভিযোগকারী বলেন, ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে তার নামে জমি কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ওই টাকার নিরাপত্তা হিসেবে তাকে অগ্রণী ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত চেক দেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, এর কিছুদিন পর তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান এবং আর সংসারে ফিরে আসেননি। পরে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি তালাকের নোটিশ পাঠান। যদিও পরবর্তীতে ব্যক্তিগতভাবে সংসার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তবে পারিবারিক কারণে তা সম্ভব নয় বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন নূর আলম।

দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ১৮ জুন তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১০০ ধারায় আদালতে আরেকটি আবেদন করেন। তার দাবি, ওই মামলায় ১৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তার স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, ২০২৬ সালের ৫ জুলাই তিনি নিরাপত্তা হিসেবে পাওয়া চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়। পরদিন ৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে Negotiable Instruments Act, 1881 অনুযায়ী মামলা দায়েরের পূর্বশর্ত হিসেবে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে ১২ লাখ টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

নূর আলম মিয়ার অভিযোগ, বর্তমানে তার স্ত্রী তাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আর সংসার করবেন না এবং নেওয়া টাকা ফেরতও দেবেন না। এছাড়া টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নূর আলম অভিযোগ করেন, তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার পর থেকেই সাদিয়া তাঁর সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করতেন এবং পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে তাঁকে ডিভোর্স দেন।

নূর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, সাদিয়া আক্তার ফেসবুকে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর তিনি সাদিয়া আক্তারের অতীত সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন, যা আগে তাঁর কাছে প্রকাশ করা হয়নি। নূর আলমের অভিযোগ, বিয়ের পরেও সাদিয়া আক্তার পর্দার আড়ালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ও টিকটকে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, সাদিয়া আক্তারের ১৫-১৭ জন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়ে তিনি সাদিয়াকে প্রমাণসহ জিজ্ঞাসা করলে সাদিয়া তা স্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন নূর আলম।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাদিয়া আক্তার নিজে অন্যায়, জালিয়াতি ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে এখন গণমাধ্যমের সামনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ‘ভালো মানুষ’ সাজার চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া নূর আলম অভিযোগ করেন, বর্তমানে সাদিয়া আক্তার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে, নূর আলম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, সাদিয়ার এই অপপ্রচারের কারণে নূর আলম ও তাঁর পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন চুপ থাকলেও এখন আইনি ও সামাজিকভাবে সাদিয়া আক্তারের এই জালিয়াতির মুখোশ উন্মোচন এবং নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান নূর আলম।

তিনি বলেন, “আমার অভিযোগের পক্ষে ব্যাংকের চেক, চেক ডিজঅনার মেমো, আইনি নোটিশ, আদালতের নথিপত্র, মোবাইল ফোনের কথোপকথন, মেসেজ, কল রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন নথি ও তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আমি আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমার একমাত্র প্রত্যাশা, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আমাকে ন্যায়বিচার দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত স্ত্রী সাদিয়া আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা ‘তাওহিদ’ নামের ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নূর আলম মিয়ার উত্থাপিত ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত স্ত্রী সাদিয়া আক্তার। উল্টো অভিযোগ করে তিনি বলেন, নূর আলমই বিভিন্ন সময়ে তাঁর বাবার কাছ থেকে এবং সাদিয়ার নিজের জমানো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাদিয়া আক্তার ও তাঁর বাবার কাছ থেকে নূর আলম টাকা নিয়েছেন-এ বিষয়ে সাদিয়ার কাছে প্রমাণ জানতে চাইলে তিনি টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ (ব্যাংক লেনদেন, রসিদ, সাক্ষী বা লিখিত চুক্তি) দেখাতে পারেননি।

অগ্রণী ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেকের বিষয়ে সাদিয়া আক্তার জানান, ব্যাংক থেকে কিছু টাকা তোলার সময় নূর আলম কৌশলে তাঁর কাছ থেকে একটি চেকে সাদিয়ার স্বাক্ষর ও ফোন নম্বর লিখিয়ে নিয়েছিলেন। নূর আলম এখন সেই স্বাক্ষরিত চেকটি ব্যবহার করে ডিজঅনারের নাটক সাজাচ্ছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করছেন।

সাদিয়া আক্তারের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। একইভাবে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর


Kurigram Songbad © 2025. All Rights Reserved.
Built with care by Pixel Suggest
error: Content is protected !!