বিশেষ প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের অভূতপূর্ব উন্নতির দাবি থাকলেও বাস্তবে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। উপজেলাবাসী প্রতিদিন দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রাজিবপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অবস্থা আরও শোচনীয়। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনও কখনও বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য আসলেও পরবর্তী দুই ঘণ্টা থাকে না।
উপজেলা শহরেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি। গরমের সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে খাবার সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছ, গোশত ও তরিতরকারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পশ্চিম বদরপুর এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ বলেন, আমাদের এলাকা যেন অগ্নিগর্ভ। প্রতি চার-পাঁচ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হয়, আর বিদ্যুৎ আসে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য। রৌমারীর তুলনায় আমরা অর্ধেক বিদ্যুৎও পাই না।
বৌউ বাজারের শহিদুর রহমান বলেন, সারা দিনে লোডশেডিং কাটিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু রাতে ঘরে থাকা মুশকিল। ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মশার উপদ্রবেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের উন্নতির কথা বলছে, কিন্তু আমরা বাস্তবে তা দেখতে পাচ্ছি না। এক হাজার টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও বিল আসে চার হাজার টাকা।
রাজিবপুরের জনগণের প্রশ্ন – যখন সরকার আলোক-উৎসব করছে, বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের দাবি জানাচ্ছে, তখন এই লোডশেডিং কেন? এত বিদ্যুৎ তাহলে যাচ্ছে কোথায়?
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজিবপুরবাসী।
Leave a Reply