নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় জেঁকে বসছে হাড় কাঁপানো শীত। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা দিলেও সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের প্রভাব অনেকটাই বেশি দেখা গেছে।
হঠাৎ মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহে । উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। জেঁকে বসছে হাড় কাঁপানো শীত।তেমন কুয়াশা না থাকলেও বইছে হিমেল বাতাস। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। সকালে কনকনে শীতে তিব্রতায় রাস্তাঘাটে চোখে পড়েনি মানুষের চলাচল। লেপের ভিতর থেকেও না হাত-পা তেমন গরম না হওয়ায় অনেকে শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছে ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৭ টায় চর রাজিবপুর উপজেলার তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৭০%।
হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের মানুষগুলোকে। শীতে অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিনে এনে দিনে খাওয়ার মানুষগুলো। তারা নিরুপায় হয়ে জীবন চলার তাগিদে হাঁড় কাপানো শীতে ছুটেছেন রিযিকের সন্ধানে। ভুট্টার মাঠে গিয়ে কথা হয় শ্রমিকদের সাথে।
তারা বলছে, গত কয়েক দিন থেকে দিনের বেলায় রোদ হালকা পাতলা দেখা গেলেও।প্রচন্ড বাতাসের কারণে শীতের কাপড় শরীরে গায়ে দিয়ে কাজ করতে হয়েছে আমাদেরকে।
অতচ গতকাল ও আজ শীতের কাপড় পরেও শীত যাচ্ছেনা। আজকে রোদ তো দূরের কথা সূর্যের আলো চোখে পরেনি।
মদনের চরের কৃষক শাহাব উদ্দিন বলেন,শীতে বাড়ি থেকে বের হতে মন চায়নি তবে বের না হয়েও উপায় নেই। কষ্ট হলেও প্রয়োজনের তাগিদে বের হতে বাধ্য হয়েছি।
জীবন চলার তাগিদে শীত অপেক্ষা করে চাইতে আসা উপজেলার বিভিন্ন গ্ৰামের নুরজাহান,সোহাগী, চায়না, সহ কয়েকজন মহিলা জানান, শীতে খুব কষ্ট পালেও নিরুপায় হয়া চাইতে বারাছি। জারে (শীত) কাটে খুব কষ্টে। শুনি প্রতেক বছর জারের (শীতের) সময় সরকার কম্বল বিতরণ করে। কিন্তু আমাদেরকে কেউ শীত বস্ত্র (কম্বল)দেয়না।
পশ্চিম বদরপুরের বিধবা মহিলা নুরজাহান বেগম বলেন, এই শীতে সবাই দামি দামি পোশাক লেপ খেতা গায়ে দিয়ে থাকে। আমার স্বামী নেই তাই আমি শীতের তেমন ভালো কোন কিছু কিনতে পারি না। সরকার যদি আমাদের শীত বস্ত্র দিতো তাও রাতে একটু আরাম করে ঘুমাতে পারতাম।অথচ যারাই পাওয়ার যোগ্য না তারাই পায়। আমরা পাওয়া যোগ্য আমরাই পায় না।
শীবেরডাঙ্গী গ্রামের বৃদ্ধ মহিলা নাম প্রকাশ করতে না ইচ্ছুক বলেন, হামার কেউ নাই বা। হামি চায়াচিন্তা খায়। একদিন বার না হলে হামার চলেনা। জীবন চলানোর তাগিদে খুব কষ্টে বাড়ি থেকে বার হচি । শীতে কষ্ট পেলেও আমি কোন কাপড় পাইনি।
কোদালকাটির কৃষক বলেন, শীত যতই হোকনা কেন আমাদের কাজ করতে হবে। তাই কষ্ট হলেও আমরা কাজ করি। এ ছাড়াও আমরা এই তীব্র শীতে সরকারের পক্ষথেকে কোন সহায়তা পাইনা।
এ শীতবস্ত্র পেলে উপজেলার অনেক গরীব, দুঃখী, ছিন্নমূল মানুষের শীত নির্মূল হবে বলে আশা করছি
Leave a Reply