ফরিদুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিনিধি:
তীব্র দাবদাহ ও বিদ্যুতের অভাবে নয়াচর নিম্ন মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো যেন একটি অগ্নিগিরির রূপ নিয়েছে। বিদ্যুতের ঘাটতি এবং তাপমাত্রার অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণি কক্ষগুলোকে অস্বস্তিকর এবং বিপজ্জনক করে তুলেছে, যার ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষের বাইরে, খোলা আকাশের নিচে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই বিদ্যালয়ে মোট তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র দুটি কক্ষে একটি করে ফ্যান আছে। অপর একটি কক্ষে কোনো ফ্যান নেই, ফলে ফ্যান থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য সেগুলো খুব একটা সহায়ক হতে পারছে না। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়েই দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, “শ্রেণি কক্ষে প্রচণ্ড গরম এবং বিদ্যুৎ না থাকায় ছাত্ররা ঠিকভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। তাই আমরা খোলা স্থানে পাঠদান করছি, যেখানে কিছুটা হলেও বাতাসের প্রবাহ রয়েছে। তবে এটি সাময়িক সমাধান মাত্র।”
একাধিক ছাত্র-ছাত্রীও অভিযোগ করেছেন যে, বিদ্যুৎবিহীন এই অবস্থায় ক্লাসে বসে থাকা তাদের পক্ষে অসহনীয় হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টির সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ক্লাসে ঢুকলেই যেন শরীর ঘেমে যায়। মাথা ঘুরে ওঠে। বাইরেও খুব গরম, কিন্তু অন্তত বাতাস পাওয়া যাচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকরা ও শিক্ষকরা এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মোঃ আকতার সরকার বলেন,”বাচ্চারা এমনিতেই পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। বিদ্যুৎ নেই, ফ্যান চলে না। এর মধ্যে আবার এত গরম! আমরা দ্রুত সমাধান চাই।”
এদিকে, এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কায় কিছু কিছু বিদ্যালয় সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র দাবদাহ ও বিদ্যুৎ সঙ্কট একসাথে মিলে সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম বিপদে ফেলে দিচ্ছে। আবহাওয়া অফিসও সতর্ক করে দিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, শুধু নয়াচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম এবং বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
Leave a Reply