নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক (কমান্ডার) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সোলায়মান সরকার। তাঁর জন্ম রাজিবপুর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম শংকর মাধবপুরে।
মুক্তিযুদ্ধে যোগদান:
১৯৭১ সালে তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। রৌমারিতে ট্রেনিং শেষ করার পর শারীরিক গঠন ও কৌশলগত দক্ষতার কারণে তাঁকে হেভি মেশিনগান চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৩ আগস্ট তারাবর যুদ্ধে তিনি সরাসরি পাক সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন। তার অসীম সাহসিকতা ও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাক বাহিনীর গানবোট ও লঞ্চ ধবংস হয়ে যায়। সেই যুদ্ধে বিচক্ষণতার সঙ্গে তিনি হেভি মেশিনগান পরিচালনা করেন এবং অন্য যোদ্ধাদের রকেট লঞ্চার ব্যবহারে পাক সেনারা দিশেহারা হয়ে চিলমারী ও কোদালকাটিতে পালিয়ে যায়।
একের পর এক জয়:
পরবর্তীতে শংকর মাধবপুর সাজাই এলাকায় আরেকটি সম্মুখ সমরে মুক্তিযোদ্ধারা অসংখ্য পাক সেনাকে নিধন করে এবং কোদালকাটি মুক্ত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় পাক সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হন।
৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন সোলায়মান সরকার। গাইবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প স্থাপনের পর গোবিন্দগঞ্জ কাটাখালী ব্রিজ ভেঙে দেওয়া হয়। এতে পাক বাহিনীর বগুড়া ও রংপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
বীরত্বের স্মারক:
এই সাহসী যোদ্ধার শরীরে আজও গুলির দাগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর বীরত্বগাথা সংরক্ষিত আছে ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে, যেখানে ঢুকলেই চোখে পড়ে তাঁর বীরত্বের স্মৃতি।
স্বাধীনতার পরের জীবন:
স্বাধীনতার পর সোলায়মান সরকার শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে শংকর মাধবপুর ফুটবল টিমের সাফল্যের নেপথ্য কারিগর তিনি।
অভিভাবক হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। ছোট ভাইবোন ও সন্তানদের মানুষ করতে অসংখ্য কষ্ট সহ্য করেছেন।
সহযোদ্ধাদের জন্য অবদান:
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্যে অন্যতম হলো বীর প্রতীক তারামন বিবিকে খেতাব প্রদানের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা। এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারই সহযোদ্ধা আব্দুস সবুর ফারুকী
Leave a Reply