নিউজ ডেস্ক:
সামিউল বাশির চিকিৎসা গবেষণায় এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় নাম, যিনি তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের মেডিকেল ল্যাবরেটরি অভিজ্ঞতা ও অদম্য প্রচেষ্টায় জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর ১৮টি গবেষণাপত্র গুগল স্কলার ইন্ডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ডায়াবেটিস, ডেঙ্গু, টেলিমেডিসিন, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, এইচএলএ-বি২৭, টিউবারকুলোসিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিপরিস্থিতি, বায়োমার্কার এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর গবেষণাগুলি চিকিৎসা বিজ্ঞানকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করছেন। অধ্যক্ষ ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “সামিউল একজন নিষ্ঠাবান গবেষক—কুড়িগ্রাম এইচটি তাঁর জন্য গর্বিত।” ঢাকা এইচটির সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওমর আলী সরকার বলেন, “আমি যখন অধ্যক্ষ ছিলাম, বাশির তখন আমার অধীনে বিএসসি করেছিল। তখন থেকেই তাঁর গবেষণার প্রতি আগ্রহ দেখেছি।” ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, “সে ছিল দক্ষ, বিশ্বস্ত ও গবেষণানিবেদিত সহকর্মী।”
ব্যক্তিজীবনে তিনি গবেষণায় নিমগ্ন। স্ত্রী আফরোজা খাতুন বলেন, “ল্যাব, ল্যাপটপ, বই আর জার্নালই তার জগৎ। উপার্জিত সব অর্থ সে গবেষণায় ব্যয় করে।”
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ঢাকা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউক্যাপ (UKAP) থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন বায়োমেডিকেল সায়েন্স অর্জন করেন। তিনি
আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি (এ এস সি পি), যুক্তরাষ্ট্র থেকে
ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্ট (এম এল এস) এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন হেলথ কেয়ার প্রোফেশনস (আই সি এইচ পি ), যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্ট (সি এল এস) হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমিউনোলজি, ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন মাইক্রোবায়োলজি, সেভেন্থ ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন এপ্লাইড মাইক্রোবায়োলজি সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অভিজ্ঞতা, গবেষণামূলক প্রকাশনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনন্য সম্পদে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে গবেষণা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি একটি সহজলভ্য ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, যা বিশ্বব্যাপী মানুষের উপকারে আসবে।
Leave a Reply