নিজস্ব প্রতিবেদক:
নব সূর্যের আলোয়, মাটির গন্ধে, আর বাঙালিয়ানা উৎসবের ছোঁয়ায় যখন বাংলার প্রতিটি প্রান্তর জেগে ওঠে পহেলা বৈশাখের আনন্দে, ঠিক তখনই প্রবাসের ব্যস্ত জীবনযাপন থেকে একটু থেমে নিজের মাটির মানুষদের কথা স্মরণ করেন কেউ কেউ। যাদের হৃদয়ের এক কোণ বরাবরই জুড়ে থাকে শেকড়, স্মৃতি আর দায়বদ্ধতা। ঠিক তেমনই একজন, রাজিবপুরের সন্তান মোঃ আরিফুল কবির তালুকদার রানা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উঁচু দালান আর নীলে মোড়ানো আকাশের নিচে থেকেও যিনি অনুভব করেন ব্রহ্মপুত্র পাড়ের ঢেউ, গ্রামের মানুষের মুখ, আর তাদের অনাগত স্বপ্নের হাহাকার। তাই তো বাংলা নববর্ষে তিনি স্মরণ করেছেন নিজের জনপদকে-ভালোবেসে, শ্রদ্ধা জানিয়ে, সম্ভাবনার বার্তা দিয়ে।
বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, সংকট-সম্ভাবনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত আছেন তিনি। অতীতেও রাজিবপুরের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন নিরব ভূমিকা রেখে।
নববর্ষ উপলক্ষে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “নববর্ষ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, চেতনাশীলতা ও ঐক্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। নতুন বছর রাজিবপুরবাসীর জীবনে কল্যাণ ও শান্তি বয়ে আনুক—এই কামনা করি। প্রবাসে থেকেও আমি সবসময় আমার এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা করতে চাই।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। তরুণ, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তখন রাজনীতির ভিন্নধারায় তাকে নিয়ে উৎসাহিত হয়েছিলেন অনেকেই। সেই নির্বাচন তার রাজনৈতিক জীবনের এক মোড় পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে করেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
রাজিবপুরের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে তিনি সবসময় সোচ্চার। আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন ও নদীভাঙন রোধসহ স্থানীয় সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানে তিনি একটি সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজিবপুরের প্রতি আরিফুল কবির তালুকদার রানার আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও আগ্রহ এই নববর্ষ শুভেচ্ছা বার্তার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রবাসে থেকেও তিনি যেভাবে এলাকার খোঁজখবর রাখছেন এবং মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে রাজনীতির মতো স্পর্শকাতর ও জনমুখী ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আসল মূল্যায়ন সময়, কর্মকৌশল ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে তার মিলের ওপরই নির্ভর করে। রাজিবপুরবাসী আগামীতেই নির্ধারণ করবে, তার নেতৃত্ব ও ভাবনা বাস্তবতায় কতটা প্রতিফলিত হয়।
Leave a Reply