কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
দারিদ্র্য, সামাজিক কটূক্তি ও কঠিন বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে স্বাবলম্বী হয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশি ইউনিয়নের নতুন গোবর ধানের কুঠি গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম। তার সংগ্রামের গল্প শুধু তার নিজের জন্য নয়, বরং দেশের সব নারীর জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সংসারের চাপে হারিয়ে যাওয়া শৈশব
মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়েই বাবা-মা বিয়ে দিয়ে দেন মনোয়ারাকে। বিয়ের পরও তিনি শিশুসুলভ আচরণ করতেন, গ্রামের শিশুদের সঙ্গে খেলতে যেতেন। কিন্তু সমাজ এ বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি। শ্বশুরবাড়ির অভাবের সংসারে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাকে আরও অবহেলার শিকার হতে হয়।
অবশেষে, স্বামী-সন্তানসহ আলাদা হয়ে পড়েন মনোয়ারা। স্বামীর দিনমজুরির অনিশ্চিত আয়ে চলতে হতো ধার-দেনার ওপর নির্ভর করে। সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর টাকাও হাতে থাকত না।
সংগ্রামের শুরু: সেলাই মেশিন থেকে মুদি দোকান
পরিস্থিতি বদলাতে মনোয়ারা বেগম নিজেই উদ্যোগী হন। কাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন, সেখান থেকে কিছু টাকা জমিয়ে একটি সেলাই মেশিন কেনেন। এক বছর পর সঞ্চিত ১২ হাজার টাকা দিয়ে ঘরের একাংশে একটি মুদি দোকান খোলেন।
প্রথমদিকে সমাজের কিছু মানুষ তাকে বাঁকা চোখে দেখত, নানা কটূক্তি করত। কিন্তু তিনি পিছিয়ে যাননি। এখন তার দোকানে দৈনিক প্রায় ১,০০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। অন্যদিকে, তার স্বামী ঢাকায় একটি বিস্কিট কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছেন, আর তাদের মেয়েটি স্কুলে পড়ছে।
নারীদের জন্য বার্তা: “কাজের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে সফলতা আসবে”
মনোয়ারা বেগম মনে করেন, নারীদের কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। শুরুর দিকে মানুষের কথায় কষ্ট পেলেও এখন এসব নিয়ে আর চিন্তা করেন না। তিনি বলেন, “কোনো কাজ খারাপ নয়, যদি পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকে, সফলতা আসবেই।”
এখন তিনি শুধু নিজের জন্য নন, বরং তার এলাকায় অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। যেকোনো বিপদে সবার আগে ছুটে যান, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
মনোয়ারার এই সংগ্রামী পথচলা প্রমাণ করে, চেষ্টা আর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।
Leave a Reply