মিজানুর রহমান মিজান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিএনপি নেতা আবু সাঈদ হোসেন পাখির বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী রেবিনা হোসেন।
রোববার (৬ জুলাই) বিকেলে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেবিনা হোসেন বলেন, “গত ৩ জুলাই কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির অনুমোদিত আহ্বায়ক কমিটিতে আমার স্বামী আবু সাঈদ হোসেন পাখি- যিনি চিলমারী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা। তাকে ৫ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কমিটি ঘোষণার পর কিছু ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মী পদ বঞ্চনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিল করলে কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার ও সদস্য সচিব আবু হানিফার নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে উল্টো আমার স্বামীসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭০ জনকে আসামি করে ৪ জুলাই চিলমারী মডেল থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সেদিন রাতেই পুলিশ আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। মূল ফটক ভেঙে ঘরে ঢুকে আমাকে গালিগালাজ করে। সন্তানদের নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। প্রতিদিন রাতে মোটরসাইকেলে আমাদের বাড়ির চারপাশে মহড়া দিয়ে অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বরং উল্টো হয়রানি করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে রেবিনা হোসেন দাবি করেন, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি তদন্ত ছাড়াই তার স্বামী আবু সাঈদ হোসেন পাখি এবং আব্দুল মতিন শিরিনকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, যা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, “আমার স্বামী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, যা পরিচালনার জন্য তিনি নিজের বাবার সম্পদ বিক্রি করেছেন।”
রেবিনা হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমার স্বামী ও তার সহযোগীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করুন। পাশাপাশি আমার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।”
Leave a Reply