রাকিব হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বদরপুর দাখিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৩ সালে এমপিওভুক্ত এই মাদরাসাটি আজও আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত ভবনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমানে মাদরাসাটিতে ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এবং প্রায় ১০-১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখানকার পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে পাঠদানের পরিবেশ ব্যাহত করে এবং শিক্ষার্থীদের বই, খাতা ও অন্যান্য উপকরণ নষ্ট হয়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।
সীমাবদ্ধ অবকাঠামো সত্ত্বেও বদরপুর দাখিল মাদরাসা উপজেলার মধ্যে ফলাফল, খেলাধুলা, স্কাউট এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এসব অর্জনের পেছনে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম।
অভিভাবকদের দাবি, আধুনিক শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠদানে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। তারা জানান, একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ পেলে মাদরাসার শিক্ষার মান আরও বহুগুণে উন্নীত হবে।
২০২৪ সালে মাদরাসাটিতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের ঘোষণা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিছুর রহমান বলেন, মাদরাসাটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও অবকাঠামোর দিক থেকে এখনো যেন ৭৪-এর দুর্ভিক্ষের মতো পড়ে আছি। উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে হলেও এটি অবকাঠামোগতভাবে সবচেয়ে অবহেলিত মাদরাসা।
তিনি আরও জানান, এই মাদরাসার অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করছে এবং কর্মরত রয়েছে। যদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হতো, তবে শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পেত এবং আমরা উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অর্জন করতে পারতাম। আমি প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, মাদরাসাটির উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে একটি মানসম্মত পাকা ভবন নির্মাণ করে বদরপুর দাখিল মাদরাসাকে একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হোক।
Leave a Reply