চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬টি এলাকা ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকার বাস্তবায়ন করছে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (ILDP) এর আওতায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে মুরগি পালন প্যাকেজের সুফলভোগীদের মাঝে মোরগ-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সকাল ১১টায় চিলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে উপজেলার জোড়গাছ পুরাতন বাজার সংলগ্ন স্বচ্ছ হোটেলের সামনে ১৪২ জন সুফলভোগীর মাঝে ১,৮৪৬টি সোনালী জাতের মুরগি এবং ২৮৪টি মোরগ** বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল টীকাদার। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিলমারী প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. শাহীন আলম, প্রকল্পের এলইও ডা. শামসুর রহমান সুমন এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল টীকাদার বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, আয়বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আমরা ২,১৩০টি সোনালী জাতের মোরগ-মুরগি বিতরণ করেছি। এতে করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। অতিরিক্ত ডিম ও মাংস বিক্রির মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ প্রকল্পের মাধ্যমে চরাঞ্চলে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মুরগি পালনের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজিতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।”
উপস্থিত সুফলভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এই সহায়তা তাদের পরিবারে পুষ্টির চাহিদা মেটাবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। অনেকেই জানান, এই মুরগি পালন করে তারা স্বল্প সময়ের মধ্যেই ডিম ও মাংস বিক্রি করে আয় করতে পারবেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে ILDP প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর আরও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ILDP প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে পর্যায়ক্রমে প্রাণিসম্পদ ও পশুসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply