বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম নাম ছিল ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর’ রাখা হয়, যা অনেকের জন্যে এক ধরনের বিষাদ সৃষ্টি করে।
‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামটি স্থানীয় জনগণের ঐতিহ্য এবং অঞ্চলের গর্বকে প্রতিফলিত করত। এটি শুধুমাত্র একটি নাম নয় বরং একটি চেতনা, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের সাথে আবেগগতভাবে জড়িত। রংপুরকে কেন্দ্র করে উচ্চশিক্ষার একটি কেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন বহু আগে থেকেই স্থানীয় মানুষের মনোভাবের অংশ ছিল। নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই স্থানীয় পরিচিতি কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
অবশ্যই, বেগম রোকেয়া বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রদূত এবং তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ নারীর ক্ষমতায়নকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এ অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য ও পরিচয়কে কেন পাশ কাটানো হলো? অনেকেই মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম রক্ষা করা উচিত ছিল, যা স্থানীয় পরিচিতি এবং গর্বের প্রতীক।
বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ “রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়” নামটি পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি নাম নয়; এটি তাদের আবেগ, ঐতিহ্য এবং স্বকীয়তার প্রতীক। এ বিষয়ে একটি গণতান্ত্রিক আলোচনা ও স্থানীয় জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি উঠেছে।
রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ফিরে পাওয়া শুধুমাত্র একটি দাবি নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান। এটি কেবলমাত্র একটি নামের প্রশ্ন নয়, বরং একটি অঞ্চলের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার লড়াই।
লেখা: আরিফ হোসেন–শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
Leave a Reply