কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা মহাসড়কের প্রায় ৩৫ কিলোমিটারজুড়ে অর্ধশতাধিক স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ খানাখন্দ। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে সড়কটির এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, মাঝে মধ্যে সামান্য সংস্কার কাজ করা হলেও কয়েকদিন পরই আবার আগের মতো গর্ত তৈরি হচ্ছে। ফলে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি সহ সব ধরনের যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, আর ইতোমধ্যে ঘটছেও ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।
এ সড়ক ব্যবহার করে রৌমারী, রাজিবপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সড়কের করুণ অবস্থার কারণে যাত্রী, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
রৌমারী উপজেলার জন্দিরকান্দা, স্লুইসগেট, চাক্তাবাড়ি, ধনারচর, সায়দাবাদ এবং রাজিবপুর উপজেলার কোমড়ভাঙ্গি স্লুইসগেট, শিবেরডাঙ্গি, মনিচাকান্দি, বটতলা তেলপাম্প, ফায়ার সার্ভিস এলাকা হয়ে ধুলাউড়ি স্লুইসগেট পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে অসংখ্য বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলার কোমড়ভাঙ্গি এলাকার বাসিন্দা সহকারি শিক্ষক সুলতান আহমেদ বলেন, এ সড়ক দিয়ে শতশত ট্রাক-বাস সহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে। বৃষ্টির কারনে ও নিম্ন মানের কাজ করায় রাস্তার দুইপাশে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের দাবী করছি।
ট্রাক চালক মো. মাজেদ মিয়া জানান, রাতের বেলায় ঝুকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অনেক জায়গায় রাস্তার মাঝখানে পর্যন্ত ভেঙ্গে গেছে। সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন জানান, রাস্তার বেহালদশার বিষয়টি জেনেছি এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের সাথে কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রকৌশলী বলেন, ইতিমধ্যে রাস্তাটি জামালপুর জেলার অধীনে রয়েছে। সমস্যাগুলো তারাই দেখবেন।
এব্যাপারে জামালপুর জেলার সওজ ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির কারনে রাস্তাটির কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সংস্কারের কাজ শুরু করবো।
Leave a Reply