সাহিদ বাদশা বাবু, লালমনিরহাট :
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ঝাড়িরঝার এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন যুবদলের নেতা-কর্মীরা। সেতুটি চালু হওয়ায় ঝাড়ীরঝার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিষতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মহিষতুলি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীসহ দুই ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি অনেকটাই কমে গেছে।
সোমবার বিকেলে নতুন এ কাঠের সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষায়, রত্নাই নদী বহু বছর ধরে ভেলাবাড়ী ওদূর্গাপুর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। নদীর দুই পাড়ে থাকা তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নৌকায় যাতায়াত করতে হতো। বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেত।
শিক্ষার্থী ছাড়াও কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য নৌকাই ছিল একমাত্র ভরসা। কৃষিপণ্য নদী পার করতে হতো অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও ব্যয়ে।
এই দুর্ভোগ লাঘবে যুবদলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ৭৫ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রস্থের কাঠের একটি সেতু নির্মাণ করেন। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান আনিছ ও সদস্য সচিব হাসান আলী।
এ কাজে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল করিমসহ ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের কর্মীরাও অর্থ ও শ্রম দিয়ে অংশ নেন।
ঝাড়ীরঝার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম মিয়া বলেন, সেতুটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুবিধা এনে দিয়েছে। নৌকাভাড়া, সময় নষ্ট আর ঝুঁকি সবকিছুর অবসান হয়েছে। বর্ষার সময় যে দুর্ভোগ হতো, তা আর থাকবে না।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,
“এই সেতু কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা জেলা শহরে যেতে আগের তুলনায় কম সময় লাগবে। ব্যয়ও কমবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন,
“এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিয়ে কেউ ভাবেনি। যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কাজটি করায় সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমেছে।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এই নদীর ওপর স্থায়ী ও টেকসই কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হবে, যাতে এলাকার মানুষ স্থায়ীভাবে সুবিধা পায়।
Leave a Reply