ভাস্কর চন্দ্র রায়, পাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন প্রতিবন্ধী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়ালের নিকট এসব দাবি তুলে ধরে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাকসুদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস, পরীক্ষা, চলাচল, আবাসন ও পরিবহনসহ নানা চ্যালেঞ্জে আমাদের একাডেমিক জীবন ব্যাহত হচ্ছিল। আজ উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সব সমস্যা তুলে ধরেছি। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনে ক্যাফেটেরিয়ায় বিশেষ কর্নার, বিশ্ববিদ্যালয় বাসে নির্ধারিত সিট এবং কাউন্সেলিং সেল গঠনের নির্দেশ দেন। অন্যান্য দাবিগুলোর বাস্তবায়নেও আশ্বাস দিয়েছেন।”
স্মারকলিপি গ্রহণকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল বলেন, “প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে একাডেমিক কাউন্সিল, প্রক্টর অফিস, ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর ও আইকিএসি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ ক্যাফেটেরিয়া কর্নার, পরিবহন সুবিধায় আলাদা সিট এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, জানুয়ারি মাসে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে একটি কাউন্সেলিং সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপির ১০ দফা দাবি:
১. প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি সংক্রান্ত নম্বর কর্তন বন্ধ।
২. পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময়, উপযোগী চেয়ার ও সহায়ক সামগ্রী নিশ্চিতকরণ।
৩. অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে ন্যূনতম ১% আসন সংরক্ষণ।
৫. ক্যাফেটেরিয়ায় বিশেষ কর্নার বরাদ্দ।
৬. সেমিনার, অনুষ্ঠান ও খেলাধুলায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত।
৭. বিশ্ববিদ্যালয় বাসে আলাদা আসন ও নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা।
৮. বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ একাডেমিক সহায়তা ও সাইন ল্যাংগুয়েজ সুবিধা।
৯. ক্যাম্পাসে র্যাম্প, লিফট, হুইলচেয়ার উপযোগী পথ ও টয়লেট নির্মাণ।
১০. মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাগত সমস্যা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্সের জন্য স্থায়ী কাউন্সেলিং সেল প্রতিষ্ঠা।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক, একাডেমিক ও স্কলারশিপ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. ফজলে রাব্বি খানসহ বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানবিক ও আইনগত দায়বদ্ধতা বিবেচনায় দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করবে।
Leave a Reply