1. atik@kurigramsongbad.com : atik :
  2. editor1@kurigramsongbad.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
  3. sifat@kurigramsongbad.com : sifat :
  4. siteaccess@pixelsuggest.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
সাম্প্রতিক :
ভূরুঙ্গামারীতে ঔষধ আইন পরিপালন ও অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকসেবীর এক মাসের কারাদণ্ড ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধন, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভূরুঙ্গামারীতে প্রথম হাসি প্রজেক্টের ক্যপাসিটি বিল্ডিং ওয়ার্কশপ ভূরুঙ্গামারীতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার বার্তা ভূরুঙ্গামারীতে মাদক প্রতিরোধে মানববন্ধন ভূরুঙ্গামারীতে ১৭৪০ মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস করল প্রশাসন ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানে গাঁজার গাছ সহ মাদককারবারি আটক জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ে কুড়িগ্রামে সেরা নাগেশ্বরী, সম্মাননা পেলেন নার্স নাজমা দুধকুমার নদে সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ২ হাজার ৫০০ মিটার চায়না জাল

বিয়ের চাপ–অভাব–অনটন জয়ের গল্প: কুড়িগ্রামের মীম এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্নে

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম | ০৩ নভেম্বর ২০২৫

হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মেয়ে মাছুমা আক্তার মীম অর্জন করেছে এইচএসসিতে জিপিএ-৫। একদিকে বিয়ের চাপ, অন্যদিকে অভাব-অনটনে জর্জরিত সংসার—সব প্রতিকূলতা জয় করে আজ মীম সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার সোনাতলি এলাকার দিনমজুর মতিয়ার রহমানের মেয়ে মীম। ৮ শতক ভিটাবাড়ি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই। বাবার দৈনিক মজুরির টাকায় চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। এই কষ্টের মধ্যেই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রতিবেশীদের চাপে এক পর্যায়ে মীমের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তার বাবা। কিন্তু পড়াশোনায় অদম্য মীম কান্নাকাটি করে মামার সহায়তায় সেই বিয়ের সিদ্ধান্ত ঠেকিয়ে দেয়।

এরপর শুরু হয় নতুন লড়াই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এখন রংপুরে কোচিং করছে মীম। কিন্তু কোচিং ফি, থাকা-খাওয়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারকে। এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মেয়েকে কোচিংয়ে পাঠানো হয়েছে। অনেক সময় খাবারের টাকা না থাকায় উপোস থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।

মীমের মা আয়েশা খাতুন বলেন,

“মেয়েটা অনেক কষ্ট করেছে। জুতা না থাকায় একবার স্কুলে ঢুকতে দেয়নি শিক্ষকরা। ঋণ করে জুতো কিনে দিয়েছি। অনেক সময় যাতায়াত ভাড়া দিতে পারিনি, ৩ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে গেছে। এত কষ্টের মাঝেও ও ভালো রেজাল্ট করেছে। এখন ওর স্বপ্ন পূরণ হোক, এটাই চাই।”

বাবা মতিয়ার রহমান বলেন,

“মেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়াতে খুব খুশি। এখন রক্ত বিক্রি করেও মেয়েকে পড়াবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ভালো রেজাল্ট করে বিসিএস দিতে চায়, আমিও তাই চাই।”

মাছুমা আক্তার মীম জানায়,

“টেস্ট পরীক্ষার পর আমার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। আমি কেঁদে মামাকে বলায় তিনিই বাবাকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। এখন সবাই আমার পাশে আছে। তবে আর্থিক কষ্টের কারণে অনেক সময় না খেয়ে থেকেও পড়েছি। আমার স্বপ্ন—বিসিএস দিয়ে প্রশাসনে কাজ করা। কিন্তু কীভাবে পথটা পাড়ি দেব, সেই চিন্তায় আছি।”

ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সফিয়ার রহমান বলেন,

“মীম অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী। পরিবারের আর্থিক অবস্থা নাজুক। সরকারি বা বেসরকারিভাবে যদি তাকে সহযোগিতা করা হয়, সে অনেক দূর যেতে পারবে।”

অভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে চলা এই মেয়েটির স্বপ্ন—একদিন প্রশাসনে যোগ দিয়ে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সহৃদয় কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন—মাছুমা আক্তার মীম, মোবাইল: ০১৩২৮৭২৯৯০৫।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর


Kurigram Songbad © 2025. All Rights Reserved.
Built with care by Pixel Suggest
error: Content is protected !!