কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
অসময়ে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুধকুমার নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের খাড়ুয়ারপাড় সবুজপাড়া এলাকায় শতাধিক পরিবার নদীর অব্যাহত ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
নদীভাঙন কবলিত মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ দাবিতে রোববার চর উন্নয়ন কমিটি ঘোগাদহ ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঘোগাদহ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আব্দুল জলিল। বক্তব্য রাখেন জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরিফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, আবদুর রাজ্জাক, আমিনুল ইসলাম, রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, এরশাদ আলী, আব্দুল আউয়াল, আব্দুর রহমান, পনির উদ্দিন, সাবেরা খাতুন ও সালেমা খাতুন প্রমুখ।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও খাড়ুয়ারপাড় সবুজপাড়া নদীতীরবর্তী এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নদীভাঙনকবলিত মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।
দুধকুমার নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা শরীফ মিয়া বলেন,“আমার বাড়ি ১৮ বার নদীতে ভেসে গেছে। এখন এমন অবস্থা সকাল থেকে দুপুর হয়ে গেছে, পেটে একমুঠো ভাতও পড়েনি।”
সবুরা বেগম বলেন,“আমার স্বামী নেই, তিন মেয়ে নিয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করি। আজ কাজও পাইনি, জানি না রাতে পেট ভরবে কিনা।”
মোছাঃ সালমা বেগম জানান,“আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। নদীর কিনারায় একচালা টিনের ঘরে থাকি, যেকোনো মুহূর্তে নদীতে ভেসে যেতে পারে।”
সাহেরা খাতুন বলেন, আমার বাড়ি ৯ বার ভেঙেছে। এখন কোথায় যাব জানি না। কেউ খোঁজ নেয় না।”
একই এলাকার আসাদুল ইসলাম (৬০), আয়নুল হক (৫০) ও আব্দুল জলিল (৬৫) বলেন,
“আমাদের বাড়িঘর বারবার নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন কেউ কেউ একবেলা খাবারও জোটাতে পারেন না।”
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর ভাঙন অব্যাহত। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারের পুনর্বাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের সঠিক সংখ্যা সরকারের নথিতেও নেই। গত দশ বছরে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনে গৃহহীন হয়েছে, এতে পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, সামাজিক বন্ধন ছিন্ন হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,“কুড়িগ্রাম জেলার আয়তন ২,২২৯ বর্গকিলোমিটার, এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ বর্গকিলোমিটার চরাঞ্চল। এখানে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বাস করে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ সুবিধার বাইরে। ১৯৯৮ সালে পাহাড়িদের আন্দোলনের পর সরকার পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। এখন সময় এসেছে চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের।”
Leave a Reply