মিজানুর রহমান মিজান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম):
চিলমারী-সুন্দরগঞ্জের হরিপুর তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ‘মাওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধনের ১২ দিন পর সেতু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের উদ্যোগে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি সেতু সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, “সেতুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এখানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সেতু প্রকল্প এলাকার দক্ষিণ প্রান্তে এলজিইডি অফিসে স্থাপিত ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন ১৬ জন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে রয়েছেন একজন এসআই, দুইজন এএসআই এবং ১৩ জন কনস্টেবল। তারা নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছেন, যাতে কোনো ধরনের চুরি, ছিনতাই কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে।
এদিকে সেতু ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, সম্প্রতি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর সেতু এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো হয়েছে এবং বিশেষ করে রাতে চলাচল অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত ২০ আগস্ট সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে এলজিইডির বাস্তবায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। এতে মোট ৩১টি স্প্যান রয়েছে। সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনসহ প্রকল্পে প্রায় ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
Leave a Reply