এনামুল হক সরকার, রাজারহাট প্রতিনিধি:
তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে আরও ২৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙন প্রতিরোধ ও তীর সংরক্ষণ কাজ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “তিস্তার ভাঙন রোধে ৪৫ কিলোমিটার কাজের জন্য সরকার আমাদের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে আমরা ১৯.৫ কিলোমিটার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি। বাকি অংশের জন্যও দ্রুত কার্যক্রম চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আমি ঢাকায় ফিরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এই বরাদ্দ নিশ্চিত করেছি। বাজেট প্রণয়নের মৌসুম না থাকলেও জনগণের কথা তুলে ধরেই আমরা কাজটি এগিয়ে নিতে পেরেছি।”
উপদেষ্টা জানান, “আজকের এই বাঁধের কাজ যদি না হতো, তাহলে খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হয়তো নদীগর্ভে হারিয়ে যেত। মানুষের জানার অধিকার আছে যে, সরকারের কাছে দাবি জানালে বাস্তবায়ন সম্ভব। আমি নিজেই কাজ দেখতে এসেছি, কারণ মানুষের স্বার্থে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
তিনি বলেন, “প্রতিটি কাজে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করেছি। যাতে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং কোনো অনিয়ম হলে স্থানীয়রাই তা সমাধান করতে পারেন।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিস্তা নদীর গতি-প্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করে উজানের দেশের ওপর। ২০১১ সালে পরিকল্পনার জন্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে এখনো সেই প্রক্রিয়া চলমান। ২০১৬ সালে চীন সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় চীনের সঙ্গে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “তিস্তা পাড়ে পাঁচটি গণশুনানি আয়োজন করা হয়েছে, যাতে এই মহাপরিকল্পনা শুধুই সরকারি না হয়ে জন-পরিকল্পনা হিসেবে গড়ে ওঠে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন দেবে, যা অক্টোবরের মধ্যে পাওয়া যাবে। তখনই জানা যাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কত অর্থ প্রয়োজন হবে।”
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চল পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবর রহমান, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক।
এছাড়া উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর একান্ত সচিব আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার দীপংকর বর।
এ সময় উপদেষ্টা নদী ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ ও আন্তরিকতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “স্থায়ী সমাধান পেতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৫ বছর। আপাতত ঝুঁকি মোকাবিলায় যা যা প্রয়োজন, তা আমরা করছি।”
Leave a Reply