কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রৌমারী-চিলমারী রুটের ব্রহ্মপুত্র নদে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীরা। দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ফেরি চালু হলেও মাত্র ১২ দিনের মাথায় ফের বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিকল্প নৌযান ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, যা অনেকের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘাট ডুবে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ফেরি বন্ধ ঘোষণা করলেও অনেক যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের অংশ। তাদের দাবি, বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘাট ইজারাদার ও নৌকার মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রতি ঈদ মৌসুমেই ফেরি বন্ধ রাখেন, যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের পকেট কাটতে সুবিধা হয়।
চিলমারীর রমনা ঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রী ও নৌকা মালিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এতে অন্তত তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ ডিসেম্বর নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে রৌমারী-চিলমারী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পরে পানি বাড়ার পর চলতি বছরের ২২ মে ফেরি চলাচল শুরু হয়। তবে মাত্র ১২ দিন পরেই (৪ জুন) ফলুয়ার চর ঘাটের রাস্তা ডুবে যাওয়ার অজুহাতে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রৌমারী থেকে চিলমারীগামী যাত্রী আলমগীর হোসেন ও মোজাফ্ফর আলী জানান, সাধারণ সময়ে এই পথে নৌকা ভাড়া ১০০ টাকা হলেও ঈদ সামনে রেখে তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় কোনও রশিদও দেওয়া হচ্ছে না, বরং প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারী শাখার বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ায় দুই তীরের ঘাট ডুবে গেছে। তবে নাইট নেভিগেশন চালু হলে রাতে ফেরি চলাচল চালু রাখা সম্ভব হবে, যা যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সহায়ক হবে।”
Leave a Reply