কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ভারত আন্তর্জাতিক নদী আইনের সকল নীতিমালা একে একে লঙ্ঘন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
সোমবার বিকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের সরিষাবাড়ি নামক স্থানে তিস্তা পারে আয়োজিত ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ নামক তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে আলাল বলেন, ‘ যখন আমাদের পানির প্রয়োজন হয় তখন পানির অভাবে এই অঞ্চলের সমস্ত ফসলি জমি, মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়। যখন পানির প্রয়োজন নেই তখন আমাদেরকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সেই বন্যার পানি কৃষক পরিবারের অশ্রুর প্রতীক।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পানি চুক্তির উদাহরণ টেনে আলাল বলেন, ‘ যুক্তরাষ্ট্র এবং ম্যাক্সিকোর সাথে মিসিসিপি নদীর পানি ভাগ করে নিয়েছে, টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদীর পানি ইউরোপের দেশগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছে। হোয়াংহো নদী চীন পাশ্ববর্তী কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম তাদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর পানি ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ’
ভারত বাংলাদেশের অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘ এই বৃহত্তর এশিয়ার পাকিস্তান এবং ভারত চিরবৈরি দেশ, চিরশত্রু দেশ। তারাও কিন্তু নিজেদের মধ্যে পানি বন্টনের চুক্তি করে নিয়েছে সিন্ধু জল চুক্তির মাধ্যমে। সিন্ধু অববাহিকার মাধ্যমে সিন্দু নদের পানি তারা সমপরিমাণে বন্টন করে নিয়েছেন চুক্তির মাধ্যমে। একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত করা হয়েছে।’
ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে শেখ হাসিনা ব্যর্থতার সমালোচনা করে আলাল আরও বলেন, ‘ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা কলসি নিয়ে নেচে গেয়ে আনন্দ করলেন শেখ হাসিনা পানি নিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে দেখা গেলো সেখানে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল না। কত কিউসেক পানি খরা এবং বন্যার সময় পাবো সেটা ছিল না। সেটা খালেদা জিয়ার সময় ছিল। এরপর আর কোনদিন শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তো দূরের কথা, দুই দেশের আলোচনার মধ্যেও সামান্যতম সুফল আনতে পারেন নাই। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে সেই প্রতিদান দিয়েছে।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছেড়ে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে আলাল বলেন, ‘পালিয়ে গেছেন শুধু নিজের পরিবারকে নিয়ে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে যদি পালিয়ে যেতেন তাহলে বুঝতাম আপনি সত্যিকার আওয়ামী লীগের নেতা। আপনি আওয়ামী লীগের নেতা না, আওয়ামী পরিবার লীগের নেতা।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আলাল বলেন, ‘যেই দলের নেত্রী নিজের পরিবার ছাড়া কিছু বোঝে না তার বক্তব্যে উৎসাহিত হওয়ার কিছু নাই। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে রেখে পালিয়েছেন। এখন তারা আত্মগোপনে ঘুরে বেড়ায়। সুতরাং আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলবো এই দল ছাড়েন। তিনি আপনাদের আবার আগুনের মুখে ফেলে দিয়ে আবার দূরের কোনও দেশে চলে যাবেন।’ নেতৃত্বের জন্য জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে দেখার পরামর্শ দেন আলাল।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি নেতা আলাল ভারতের কাছে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকারের জন্য জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কর্মসূচীর উদ্দেশ্য নিয়ে আলাল বলেন, ‘এই ৪৮ ঘন্টা কর্মসূচীর হলো একটি প্রতীকি কর্মসূচী। এর মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই। সেটা হলো, বাংলাদেশ তার অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বিএনপির নেতৃত্বে আপোষহীন থাকবে।’
কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, সফিকুল ইসলাম বেবু সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। তিস্তার পানির হিস্যা আদায় ও ভাঙন রোধের জন্য নেওয়া ৪৮ ঘন্টার এই কর্মসূচী মঙ্গলবার শেষ হবে।
Leave a Reply