দীর্ঘদিন ধরে বর্বর নির্যাতনের শিকার হওয়া এই শিশুটি গত ৮ মার্চ আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ সকালে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার। প্রথম দুইবার তাকে স্থিতিশীল করা গেলেও তৃতীয়বার হৃদস্পন্দন ফিরে আসেনি।
আছিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে গুরুতর জখম ছিল। অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল, যার ফলে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটতে থাকে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তার জীবন রক্ষা করতে পারেননি।
সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রদান করছিলেন। তার রক্তচাপ ছিল অস্বাভাবিকভাবে কম, শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং কিডনি বিকল হয়ে পড়েছিল, যার কারণে তাকে ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছিল।
শিশুটির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জানিয়েছে, প্রয়োজনে পরিবারটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।
সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা শিশুটির প্রতি সংঘটিত নির্মম নির্যাতনে গভীরভাবে মর্মাহত। তার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”
আছিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ জনগণ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আছিয়ার জন্য বিচার চাই’ হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার দাবি জানিয়েছে এবং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দেশবাসী আছিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।
আছিয়ার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশবাসী আশা করছে, এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
Leave a Reply