কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
নাম বললেই বা ফোন নম্বরের শেষ দুটি সংখ্যা শুনেই যে কোনো মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর প্রতিভার জোরে তিনি প্রমাণ করেছেন—দৃষ্টি না থাকলেও সফলতা অর্জন সম্ভব।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাঙ্গারিপাড়া গ্রামের জন্মান্ধ এই যুবক মিজান সংসারের হাল ধরতে ২০১৭ সালে টাপুরচর বাজারে তাবু টানিয়ে ফ্লেক্সিলোড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বাজারে ভাড়া করা একটি ছোট দোকানঘরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাত্র ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা ৩০ বছর বয়সী মিজান এখন পর্যন্ত প্রায় দশ হাজারের বেশি মোবাইল নম্বর মুখস্থ করেছেন। একবার কোনো গ্রাহকের কণ্ঠ শুনলেই বা শেষের দুটি ডিজিট শুনেই তিনি পুরো নম্বরটি বলে দিতে পারেন। ফ্লেক্সিলোড, নগদ–বিকাশে টাকা পাঠানো কিংবা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ—সবই করেন অনায়াসে, কোনো ভুল ছাড়াই।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও মিজান টাকা চিনতে ভুল করেন না। ছেঁড়া বা জাল নোটও হাতের স্পর্শে বুঝতে পারেন। মোবাইল সেটের কীপ্যাডের অবস্থান হাতের স্পর্শেই বোঝেন তিনি।
অভাবের সংসারে সামান্য সরকারি ভাতা পেলেও দোকানঘর না থাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারছেন না তিনি। মিজান বলেন, “যদি বাজারের খাস জমিতে বিনামূল্যে দোকানঘর করার সুযোগ পাই, তাহলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব।”
এ বিষয়ে টাপুরচর হাটের ইজারাদার মোস্তফা মোর্শেদ বলেন, “স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা তাকে দোকানঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, “দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানকে স্বাবলম্বী করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
Leave a Reply