কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন চাষিরা।
বর্তমানে জেলায় রোপা আমন ও আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ চলছে। চলতি মৌসুমে বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় চরাঞ্চলজুড়ে আবাদ বেড়েছে। এতে সারের চাহিদা দ্বিগুণ হলেও সরবরাহ তুলনামূলক কম। ফলে কৃষকরা দিনের পর দিন সার ডিলারের কাছে ধর্ণা দিয়েও চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না।
কৃষকরা জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও প্রত্যেকে ১০ থেকে ২০ কেজির বেশি সার পাচ্ছেন না। বাজারে ইউরিয়া প্রতি কেজি ৩৪ টাকা, ডিএপি ৩৫ টাকা এবং টিএসপি ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি। এতে রোপা আমনসহ আগাম সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলার সন্যাসী গ্রামের কৃষক মর্তুজা, আতা ও লিটন অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান বাজারে ইউরিয়া, পটাশ ও ডিএপি প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। ডিলাররা সীমিত পরিমাণ দিচ্ছে, তার দামও দ্বিগুণ নিচ্ছে। এতে আবাদ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে কুড়িগ্রাম জেলায় বরাদ্দ ছিল ইউরিয়া ৬ হাজার ২৫৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ৮০৯ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৭০ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ইউরিয়া ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন, টিএসপি ৪৫২ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ২০১ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ১১০ মেট্রিক টন।
জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে রৌমারী, নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলায় সবচেয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত সার সরবরাহ না হলে জেলার আমন ও সবজি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক , আবদুল্লা আল মামুন জানান এ বছর বন্যা ও বৃষ্টিপাত কম হবার কারণে চরাঞ্চলে রোপা আমনের
আবাদ বেড়ে যাওয়ায় সারের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে বর্তমান সারের কোন সংকট নেই। প্রতিটি পয়েন্টে আমাদের কমকতাদের মাধ্যমে কৃষকদের সার সুষ্ঠ ভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।
Leave a Reply