রৌমারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী বাজার ও বড়াইকান্দি বাজারে কৃষকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এক পর্যায়ে ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এসময় হাতাহাতি ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লক্ষ্যমাত্রা ও বরাদ্দ
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর আমন মৌসুমে উপজেলায় ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। ওই জমির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—
কৃষকের অভিযোগ
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিএডিসি সার ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার বিক্রি না করে অবৈধভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে।
রৌমারী ইউনিয়নের কৃষক মজনু মিয়া বলেন,
“ডিএপি সার ১০৫০ থেকে ১৩৫০, টিএসপি ১৩৫০ থেকে ২৪০০ আর ইউরিয়া ১৩৫০ থেকে ১৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। মেমো চাইলে বলে, সার নাই।”
খাটিয়ামারী গ্রামের কৃষক আফতারুল ইসলাম বলেন,
“আমন চারা রোপণ করবো, টিএসপি দরকার। ডিলারের কাছে গেলে বলে নাই। কৃষি অফিস বলে আছে। আসলে আমরা সার পাচ্ছি না।”
ডিলারদের বক্তব্য
বিসিআইসি সার ডিলার মজাহার আলী দাবি করেন,
“বরাদ্দ কম, চাহিদা বেশি। বাংলা ও তিউনিসিয়া টিএসপি ছাড়া অন্য সারে সংকট নাই। চাহিদার তুলনায় সার দেওয়া যাচ্ছে না।”
প্রশাসনের অবস্থান
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খুব শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে। এ উপজেলায় বিসিআইসি ১৪, বিএডিসি ২০ এবং খুচরা ১০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। মনিটরিং অব্যাহত আছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার বলেন, সার নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি শান্ত করে ও অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা হয়েছে। সার সংকটের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
Leave a Reply