নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। উপজেলার নদীবেষ্টিত বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বজরা, গুনাইগাছ ও থেতরাই ইউনিয়নের ৪০টি চরে অবস্থিত ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যতা সবচেয়ে প্রকট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উলিপুরে মোট ২৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ২৬৭ হলেও কর্মরত আছেন ১৫৫ জন; সহকারী শিক্ষকের পদ ১৪৫৭ হলেও কর্মরত আছেন ১৩৩০ জন। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৯টি পদের মধ্যে ৬টি শূন্য রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরের স্কুলে না দিয়ে অন্যত্র পদায়ন করা হয়েছে। বরং চরের কয়েকজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক স্কুল একজন বা সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক দিয়ে চালাতে হচ্ছে। কিছু বিদ্যালয়ে আবার পুরোপুরি শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়েছে।
সীমান্তবর্তী সাহেবের আলগার মশালের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র শিক্ষক ছিলেন মো. মমিনুল ইসলাম। তিনি ১১৯ জন শিক্ষার্থীকে একাই পাঠদান করতেন। সম্প্রতি ৪৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন, ফলে বিদ্যালয়টি আবারও শিক্ষক শূন্য হয়ে গেছে।
সুখের বাতীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, তার স্কুল ভবন দুই বছর আগে নদীতে ভেঙে গেছে, বর্তমানে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ভাড়া নিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। তিনি সপ্তাহে দু’দিন ক্লাসে যেতে পারেন, বাকী দিন নিজস্ব প্যারা শিক্ষক দিয়ে শিক্ষাদান চলছে।
মশালের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, তিনি একাই ১১৯ জন শিক্ষার্থীর স্কুলটি চালাচ্ছেন, কিন্তু ৪৪তম বিসিএসের কারণে সম্প্রতি তিনি পদত্যাগ করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, শিক্ষক সংকট ও সঠিক উপস্থিতি না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্যতার কারণে নজরদারিতেও ঘাটতি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
Leave a Reply