কুড়িগ্রাম, ২৬ আগস্ট ২০২৫ খ্রি.
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে সংযোগ সড়ক না থাকায় অচল পড়ে থাকা একটি সেতু সংস্কারের পর অবশেষে ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে। এতে সাত গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি দূর হয়েছে।
সেতুটি রৌমারী উপজেলার সদর ও যাদুরচর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কর্তিমারী বাজার থেকে দুবলাবাড়ি বাজার সড়কের পুরাতন যাদুরচর এলাকায় অবস্থিত। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদার।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয়েছিল ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি দীর্ঘদিন অকার্যকর থেকে যায়। দুবলাবাড়ি, পুরাতন যাদুরচর, ঝাউবাড়ি, বকবান্ধা, খেওয়ারচর, কাশিয়াবাড়ি ও বাওয়াইর গ্রামের মানুষ এ কারণে মারাত্মক দুর্ভোগে ছিলেন।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) তত্ত্বাবধানে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর সংযোগ সড়ক ও মূল সড়ক সংস্কার করা হয়। এর মধ্যে কাবিখা প্রকল্প থেকে চার লাখ টাকা এবং এডিবি বরাদ্দ থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়ক সচল হওয়ায় এখন ভ্যান, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। দুবলাবাড়ি এলাকার ভ্যানচালক সমেশ উদ্দিন বলেন, “সড়ক চালু হওয়ায় অহন আয় বাড়ছে। গর্ভবতী নারী ও রোগীদের জন্যও বড় উপকার হইছে। আগে গাড়িতে যাওয়া সম্ভব ছিল না, এখন সরাসরি উপজেলা সদরে যাওয়া যাচ্ছে।”
কাঁঠালবাড়ি গ্রামের বিক্রয় প্রতিনিধি নয়ন আহমেদ বলেন, “সেতু হওয়ার পর এই প্রথম মোটরসাইকেলে এই রাস্তায় চলতে পারছি। আগে অনেক ঘুরে যেতে হতো। এখন সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।”
ইউএনও উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জনভোগান্তির বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই আমরা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। সম্প্রতি সংস্কার কাজ শেষে সড়ক ও সেতুটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ভোগান্তি নিরসন হলো। উপজেলা প্রশাসন সবসময় মানুষের কল্যাণে পাশে থাকবে।’
Leave a Reply