রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি , ৩ আগস্ট ২০২৫:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংস্কারের অভাবে ঘরগুলোর অবস্থা এখন এতটাই করুণ যে সেগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চাল ফুটো হয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, ভিজে যায় বিছানা-পত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চালের টিনে মরিচা পড়ে জালের মতো ছিদ্র হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাসিন্দারা ইট, কাগজ ও প্লাস্টিক দিয়ে ছাউনি আটকানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তা সাময়িক। অনেকে বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।
২০০১ সালে সাড়ে তিন একর জায়গাজুড়ে এই প্রকল্পের আওতায় ১৫০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই থেকে আজ পর্যন্ত ঘরগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।
ঘরবাসী জামিরন বেওয়া বলেন, “সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন এই ঘরে থাকা সম্ভব নয়। চালের টিন নষ্ট হয়ে গেছে, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে, বাতাস ঢোকে। মাথা গোঁজার মতো একটা ঠাঁই চাই, সেটাও ঠিকমতো নেই।”
অন্য আরেক বাসিন্দা সূর্যভান বেওয়া বলেন, “বৃষ্টির সময় ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে, কাপড়চোপড় ভিজে যায়। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কেউ খোঁজ নেয় না।”
আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি মো. রহিম বাদশা জানান, বারবার লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান কেউ করছে না।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদার বলেন, টাপুরচরসহ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ অবস্থা আমরা দেখেছি। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র সংস্কার কাজ শুরু হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আব্দুল কাদের সরকার বলেন, সংস্কারের অভাবে প্রকল্পটি আজ মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যে উদ্দেশ্যে গৃহহীনদের ঘর দিয়েছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।
ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, ঘরগুলোর চালে বড় বড় ছিদ্র, সংস্কার জরুরি। আমি স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, এই মানুষগুলোর জীবনমান উন্নয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পের সঙ্গে কুঠির শিল্প যুক্ত করা হলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।
Leave a Reply