কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১ একর ৫৫ শতাংশ জমি প্রায় ৫৮ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে। বারবার নোটিশ ও মামলার পরও আজ পর্যন্ত জমিটি দখলমুক্ত হয়নি।
জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড রৌমারীতে স্থায়ী অফিস ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে এই জমি ক্রয় করে। জমি বিক্রেতারা ছিলেন—আব্দুল আউয়াল, আবুল হোসেন, আব্দুল মজিদ, আলিমুদ্দিন ও আজিজুল হক। তারা যথাযথ মূল্য গ্রহণ করে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন করেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জমির ওপর পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিক্রেতাদের উত্তরসূরি মরহুম আনোয়ারা হোসেন ও পলাশ ওই জমির পশ্চিম পাশে দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিচ্ছেন। এছাড়া, জমির সংলগ্ন একটি বড় পুকুরে মাছ চাষ করে প্রতিবছর লক্ষাধিক টাকার মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।
জমিটি উদ্ধারে প্রায় দুই যুগ ধরে মামলা চললেও অগ্রগতি তেমন নেই। ফলে দখলদাররা নির্ভারভাবে সরকারি জমি ব্যবহার করে সরকারের রাজস্ব হানি ঘটিয়ে চলেছেন। জেলা পাউবো কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ পাঠালেও তাতে কোনো কর্ণপাত করা হয়নি।
এদিকে, রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চল ভারতের আসামের সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হয়। এখানকার ঝুঁকি মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থায়ী অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও জমি দখলে থাকায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রবাদ আছে—‘আছে গরু, না বয়ে হাল তার দুঃখ থাকে সর্বকাল’। জমি থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, “পাউবোর সব বৈধ দলিলপত্র রয়েছে। মামলা চলমান, তবে আমরা আশাবাদী যে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেবেন। দখলদারদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, কারণ তাদের পিতা পাউবোর কাছে জমি বিক্রি করে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন করেছিলেন। উত্তরাধিকারীরা সেই জমির মালিকানা দাবি করতে পারেন না।”
Leave a Reply