রাজিবপুর প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় সরকারি জমিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা উসিউজ্জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলা সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের পাশে এ জমিটি দখল করে তিনি সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেন।
সূত্র জানায়, উসিউজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে, রাস্তার পাশের জমিটি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে রাজীবপুর উপজেলা ভূমি অফিস জমিটির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে।
ভূমি অফিসের তদন্তে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত উপজেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত। যদিও এর একটি অংশ ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে, তবে উসিউজ্জামান যে অংশে দখল করেছেন, তা সরকারি খাসজমির আওতায় পড়ে।
এ প্রেক্ষিতে সোমবার (১৬ জুন) উপজেলা প্রশাসন উক্ত জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় উসিউজ্জামান ও তার ভাই বদিউজ্জামানসহ স্বজনরা বাধা সৃষ্টি করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহী জনসমক্ষে ম্যাপ তুলে ধরেন এবং প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
তবে উসিউজ্জামান সেই তথ্য অস্বীকার করে কাগজ যাচাইয়ের আবেদন জানান। স্থানীয়দের অনুরোধে ইউএনও ফজলে এলাহী ১৮ জুন (বুধবার) রাজীবপুর উপজেলা হলরুমে জমির দলিল ও রেকর্ডপত্র যাচাইয়ের আয়োজন করেন। যাচাই অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সচেতন মহল উপস্থিত ছিলেন।
যাচাই শেষে প্রমাণিত হয়, বিতর্কিত জমিটি সরকারি এবং উপজেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত। এতে করে উসিউজ্জামানের জমি দখলের দাবি বাতিল হয় এবং এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এ ধরনের অবৈধ দখলের চেষ্টা না করে, সে জন্য প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
Leave a Reply