মাইদুল ইসলাম মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি:
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশ ইন’ প্রচেষ্টা ঠেকাতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের শোভারকুটি ও শিপেরহাট সীমান্তে রাতভর পাহারা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৩ জুন) রাত ৮টা থেকে শনিবার (১৪ জুন) ভোর ৫টা পর্যন্ত তারা বাঁশের লাঠি হাতে সীমান্তে পাহারায় ছিলেন। এ সময় সীমান্তে বিজিবি এবং আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ভারতের আসামের ধুবড়ি জেলার গোলকগঞ্জ থানাধীন বিএসএফ সদস্যরা শুক্রবার সন্ধ্যায় দুটি পিকআপ ভ্যানে করে ৫০-৬০ জন মানুষকে এনে ফাইস্কারকুটি গ্রামের একটি স্কুল মাঠে রাখে, যেটি বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে। পরবর্তীতে রাতের অন্ধকারে সীমান্তের বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে ওইসব মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ।
এই তথ্য জানাজানি হলে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ জড়ো হন সীমান্ত এলাকায় এবং বাঁশের লাঠি হাতে রাতভর পাহারা দেন।
শোভারকুটি গ্রামের বাসিন্দা নূর হক (৪৫) জানান, রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত জেগে ছিলাম। আমার মতো অনেকেই ছিল বাঁশের লাঠি হাতে। আমরা বিজিবিকে সহায়তা করেছি।
শিপেরহাট এলাকার কৃষক মোক্তার আলী (৬৫) বলেন, “বিএসএফ যাদের এনেছে, তারা এখনো ভারতীয় সীমান্তেই আছে। সুযোগ পেলে ওদের ঠেলে দিতে পারে। আমরা সজাগ আছি।
এ সময় কচাকাটা ও কেদার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য এবং আনসার ভিডিপির দলগুলো যৌথভাবে রাতভর টহল দেয়। বিএসএফ সদস্যরাও ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়। তারা বিজিবির সঙ্গে কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও বিজিবি তাতে সাড়া দেয়নি। রাত ৩টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা শূন্য রেখা থেকে সরে যায়।
কুড়িগ্রাম বিজিবি ২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন,বিএসএফ যেন কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে না পারে, সেজন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। স্থানীয়দের সঙ্গে যৌথভাবে পাহারা ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
Leave a Reply