মাইদুল ইসলাম মামুন,,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে নাগেশ্বরী উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আজ শুক্রবার এখন পর্যন্ত থামার কোনো নাম নেই। এ বৈরী আবহাওয়ার ফলে উপজেলার জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষজন কাজে বের হতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই উপোস অবস্থায় দিন পার করছেন।
বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচলও কমে এসেছে। বাজারগুলোতে নেই তেমন ক্রেতা-বিক্রেতা, আর উপজেলার বিভিন্ন ঘাটগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
দুধকুমর, ফুলকুমর, ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদী এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে, যা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। রিকশাচালক হামিদুল (৩৭) বলেন, গত দুদিনে তেমন ভাড়া পাইনি। বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। এখন ধার দেনা করেই দিন পার করতে হচ্ছে।
অপরদিকে, ধান ও ভুট্টা কাটার মৌসুম চলমান থাকলেও বৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না। রায়গঞ্জ এলাকার কৃষক শাহানুর বলেন, কাটা ধান পানিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে, খড়ও ভিজে গলে যাচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে খড়ের সংকট দেখা দিতে পারে।
বৃষ্টির প্রভাবে হাট-বাজারেও পড়েছে প্রভাব। বৃহস্পতিবার নাগেশ্বরীর গরুর হাটে কোরবানির পশুর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বৃষ্টিতে ভিজে ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছেন।
শুধু মানুষই নয়, গবাদি পশুরাও পড়েছে চরম দুর্ভোগে। মাঠে পানি জমে থাকায় তারা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে না।
সবমিলিয়ে নাগেশ্বরী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে এক স্থবির ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
Leave a Reply