ফুলবাড়ী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফুলশয্যার রাতেই মারা গেলেন এক নববরের, আর জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল এক নববধূর স্বপ্ন। মেহেদী রাঙা হাত, লাল শাড়ি আর চোখে অশ্রু নিয়ে স্বামীকে চিরবিদায় জানালেন লাভলী আক্তার (২০)। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ গ্রামে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়ার বাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে খালেকুজ্জামান ডিউটের সঙ্গে একই উপজেলার কবিরমামুদ গ্রামের মেয়ে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবের আমেজ—আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের আপ্যায়ন ও আনন্দ-উল্লাসে মুখর ছিল গোটা এলাকা।
তবে সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় শোকে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাসর ঘরে প্রবেশের পর নববধূর কাছে এক গ্লাস পানি চেয়ে হঠাৎ চিৎকার করে মেঝেতে পড়ে যান বর খালেকুজ্জামান ডিউট। চিৎকারে ছুটে আসেন পরিবারের লোকজন। ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ডেকে আনা হলে তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বরখানার মৃত্যু হয়েছে। মৃত খালেকুজ্জামান উপজেলার রামপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
নববধূর চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলম জানান, ডিউটের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। আগের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। “আমার ভাতিজির বিয়ের রাতে এমন অঘটন ঘটে যাবে—কে জানতো! এত অল্প বয়সে সে বিধবা হয়ে গেল,” বলেন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম মিয়া সোহেল বলেন, “খালেকুজ্জামান ডিউটের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। নিয়তির ওপরে কারো হাত নেই, তবে বাসর রাতেই স্ত্রীকে বিধবা হতে দেখার মতো ঘটনা সমাজে খুব কম দেখা যায়।”
শুক্রবার বিকেল ৩টায় পারিবারিক কবরস্থানে প্রধান শিক্ষক খালেকুজ্জামান ডিউটের দাফন সম্পন্ন হয়। এখনও শোকের ছায়া কাটেনি দুই পরিবারে।
Leave a Reply