কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কারাগারে ৬ মাস ধরে আটক রয়েছেন কুড়িগ্রামের ৭ জেলে। রাজীবপুর উপজেলার জিঞ্জিরাম নদী হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মাছ ধরার সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বর্তমানে তারা মেঘালয়ের মাহিন্দগঞ্জ থানার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
আটক সাত জেলের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায়। পরিবারের আয়ের প্রধান ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে তাদের স্বজনদের। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন গুনছেন পরিবারগুলো—কীভাবে প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, সেই চিন্তাই যেন তাদের একমাত্র বাস্তবতা।
আটক জেলেদের পরিচয়
১. রাসেল মিয়া (৩৫), পিতা: মৃত আবুল হোসেন, হরিনের বন্দ, রমনা মডেল ইউনিয়ন, চিলমারী
২. বিপ্লব মিয়া (৪৫), পিতা: বাহাদুর মিয়া, ব্যাপারী পাড়া, চিলমারী
৩. মীর জাহান আলী (৪৫), পিতা: শামছুল হক, চিলমারী
৪. বকুল মিয়া (৩২), পিতা: মৃত এছাহক আলী, চিলমারী
৫. আমির আলী (৩৫), পিতা: পকের আলী, চিলমারী
৬. আঙ্গুর হোসেন (২০), পিতা: জরিপ উদ্দিন, বালিয়ামারী ব্যাপারী পাড়া, রাজীবপুর
৭. চাঁন মিয়া (৬০), পিতা: ছলিম উদ্দিন, যাদুর চর বকবান্ধা, রৌমারী
২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর বিএসএফ তাদের আটক করে। এরপর দীর্ঘদিন তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে সম্প্রতি ভারতের মেঘালয়ের মাহিন্দগঞ্জ থানার তুরা এলাকার এক বাসিন্দার মাধ্যমে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।
আটক জেলে বকুল মিয়ার স্ত্রী আজেদা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ৬ মাস ধরে ভারতের জেলে। কিছুদিন আগে একটি চিঠি পাঠায়। পরে এক উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। সন্তানদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছি। সরকারের কাছে আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করছি।”
রমনা মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আঁকা জানান, “এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় তারা আটক হন। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।”
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, “বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে হলেও আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। মানবিক দিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply