মিজানুর রহমান মিজান,(চিলমারী, কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমীর পূণ্য স্নান পালিত হয়েছে। পূণ্য স্নানে অংশ নিতে শুক্রবার দুপুর থেকেই ব্রহ্মপুত্রে পাড়ে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে।
প্রতিবছর চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাপমোচনের আশায় স্নান করে ভগবানের কৃপা কামনা করেন।
স্নান মেলা আয়োজক কমিটির আহবায়ক শ্রী বিষু চন্দ্র জানান,অষ্টমী স্নানের লগ্ন শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টা ৭মিনিট থেকে শনিবার রাত্রি ১২ টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত। তবে এবার শনিবার দুপুর ১২ টা ৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট স্নানের উত্তম সময়। ভোর ৪টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে বিকাল ৫টায়।
চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাপ মোছনের জন্য প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদে পূণ্য স্নান সম্পন্ন করেন।
এবারের পূণ্য স্নানে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে দাবী আয়োজকদের। তারা জানান, চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী নৌ-বন্দর এলাকা থেকে জোড়গাছ ঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অষ্টমীর স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্নান উৎসবে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণ্যাথীরা একদিন আগেই চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। আগতদের থাকার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পূণ্যার্থীদের স্নান পরবর্তী পোশাক পরিবর্তনের জন্য ৩০টি বুথ, ১০টি টিউবওয়েল, পয়নিস্কাশনের জন্য ২৩টি টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।
অষ্টমী স্নানের নিরাপত্তায় ১৪০জন পুলিশ, ২৫জন আনসার, ২ ম্যাজিস্ট্রেট, ১জন ডুবুরী, সেনাবাহিনীসহ সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন,বহু বছর ধরে চিলমারীর অষ্টমীর স্নান মেলার ঐতিহ্য রয়েছে। সেই সাথে সনানতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি তীর্থ স্থান। এখানে স্নানের মধ্য দিয়ে তারা পাপ মোচন হয়ে থাকেন। মেলায় কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই খুব ভালো ভাবে উদযাপিত হয়েছে। এবারের মেলায় প্রায় আড়াই লক্ষ পূর্ণার্থীর উপস্থিতি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
Leave a Reply