মিজানুর রহমান মিজান,নিজস্ব প্রতিনিধি:
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, খুনিদের কোন মাফ নাই। বাংলাদেশে অন্যায় ভাবে যত মানুষকে খুন করা হয়েছে আমরা তার প্রত্যকটির বিচার চাই। ‘স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামীলীগ এদেশের মানুষের জন্য দুর্ভিক্ষ ছাড়া আর কি উপহার দিতে পেরেছে। একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া বাসন্তিকে জাল পড়িয়ে এদেশের ইজ্জত বহির্বিশ্বে নষ্ট করেছে। বিগত ১৬ বছরে তাঁরা এদেশ থেকে ২৬ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। অথচ যা কিছুই ঘটে, যা কিছু চুরি হয় সেখানে জামাত নেতাদেরকে কেষ্ট ব্যাটায় চোর বলে হাজির করা হয়েছে। আমরা এই কর্মী সম্মেলন থেকে দেশবাসীকে বলতে চাই, যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের হাতে এদেশের মানুষ নিরাপদ। এদেশের সম্পদ নিরাপদ। ফ্যাসিসরা যেন পুনরায় ফিরে না আসে এবং আমরা যেন তাদের আশ্রয়-প্রশয় না দেই।’
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল মতিন ফারুকীর সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন।
এসময় শফিকুর রহমান আরো বলেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামীলীগ এদেশের মালিক হিসাবে নিজেদের উপস্থাপন করেছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। এদেশে কেউ মেজোরিটি আর কেউ মাইনোরিটি নয়। সবাই সমান। সকল ধর্মের মানুষ সমান। বিগত ৫৩ বছরের ইতিহাস দেখেন কারা সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছে। কারা তাদের ভিটেমাটিতে আগুন দিয়ে তাঁদের উচ্ছেদ করেছে। এই ইতিহাস সবাইকে জানাতে হবে।
পিলখানার হত্যাকান্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্তে বিডিআর ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে ভারতীয় বাহিনীর পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসাবে পিলখানার হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফ্যালানি হত্যার বিচার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে করতে পারেনি। এসব হত্যাকান্ডের প্রতিটির বিচার হবে। খুনিদের কোন মাফ নাই। আমরা বাংলাদেশে যত অন্যায় ভাবে যত মানুষকে খুন করা হয়েছে তার প্রত্যকটির বিচার চাই।
নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জায়গা মামলা বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য ঘটনার কথা শোনা যায়। যারা এই কাজগুলো করে তাঁরা এদেশের মানুষের শত্রু। তাঁরা ২৪ এর গণ অভ্যন্থানের চেতনা বিরোধী। আমাদের জাতীয় ঐক্য নষ্ট হয় এমন কাজ আমরা করবো না। ন্যায়ের পাশে, ইনসাফের পাশে আমরা যতোদিন আছি ততোদিন আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন। মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের যুদ্ধ চলবে বলে তিনি জানান।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে সকাল ৯টায় কর্মী সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল বিকেল থেকে এবং শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজের পর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করে। সকাল ১১ টার মধ্যে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে সরকারি কলেজ মাঠে স্থান না পেয়ে নেতাকর্মীদের অনেকে কুড়িগ্রাম মার্কাস মসজিদ, জজ কোর্ট এলাকা ও কলেজমোড়ের বিভিন্ন মাঠে থেকে জামায়াতে ইসলামী আমীরের বক্তব্য শোনেন।
এসময় কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বেলাল ও সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম প্রমুখ।
Leave a Reply