ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের জেগে ওঠা চরাঞ্চলে বেগুন চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে বেগুন চাষ করে কৃষকরা পেয়েছেন সাফল্যের ছোঁয়া। এই বেগুন দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে।
উপজেলার তিলাই, পাইকেরছড়া, বলদিয়া ও আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের দুধকুমার নদীর চরে চাষ হওয়া বেগুন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগবালাই কম হওয়ায় ও বন্যার প্রকোপ না থাকায় কৃষকরা পেয়েছেন বাম্পার ফলন।
এক বিঘা জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বেগুনের চারা রোপণ করা যায়। কৃষকদের দাবি, ৪০-৪৫ দিন পরিচর্যার পর এক বিঘা জমি থেকে তিন মাসে প্রায় ৪০০-৪৫০ মণ বেগুন উৎপাদন হয়। পাইকারিতে বেগুন প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৭৫০ টাকায়। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘায় বেগুন চাষে খরচ হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। কিন্তু বেগুন বিক্রি করে তারা আয় করেছেন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।
চরভূরুঙ্গামারীর কৃষক জানে আলম, মনছুর ও বাচ্চু মিয়া জানান, “এখনো ক্ষেত থেকে বেগুন তোলা হচ্ছে। রমজান পর্যন্ত বেগুন বিক্রি করলে আরো ১-১.৫ লাখ টাকা আয় হবে।”
ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকে সরাসরি বেগুন কিনছেন। পাইকার বাদশা মিয়া ও নুর ইসলাম জানান, “এখানকার বেগুনের মান ভালো। ক্ষেত থেকে প্রতি মণ বেগুন ৭০০-৭৫০ টাকায় কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে ১,০০০-১,২০০ টাকায় বিক্রি করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, “চরের পলি দোআঁশ মাটি বেগুন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চলতি বছর বন্যা কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। আমরা কৃষকদের বেগুন চাষে উৎসাহিত করেছি এবং সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ফলে কৃষকরা এই লাভজনক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
চরাঞ্চলের সাদা, কালো ও বল বেগুন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাহিদা পূরণ করছে। বেগুন চাষের এই ধারাবাহিক সাফল্যে চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন আরো বেশি জমিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন।
Leave a Reply