1. atik@kurigramsongbad.com : atik :
  2. editor1@kurigramsongbad.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
  3. sifat@kurigramsongbad.com : sifat :
  4. siteaccess@pixelsuggest.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
সাম্প্রতিক :
রাজিবপুর মডেল প্রেসক্লাবের আংশিক কমিটি ঘোষণা প্রেমের বিয়ের পর প্রতারণার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চাইলেন টাঙ্গাইলের যুবক ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা কুড়িগ্রামে যমজ তিন বোনের অনন্য সাফল্য, একসঙ্গে পেল ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি জলাবদ্ধতায় অচল চরনেওয়াজী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাল নোট দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাদক কেনার চেষ্টা, আটক ১ ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ভ্যানের সিটের নিচে ১৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা, আটক ২ গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে ফোন, গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি শূন্যরেখায় ১৭ দিন অবস্থানের পর রাতের অন্ধকারে উধাও তিন তরুণ

বীর প্রতীক তারামন বিবি: জাতীয় গৌরব, কিন্তু যথার্থ সম্মান কি পেয়েছেন?

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

পাঠকের চিন্তা:

মোঃ ফরিদুল ইসলাম, তরুন লেখক:

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায়ে নারীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ এক অনন্য স্থান দখল করে রেখেছে। এই অধ্যায়ে যাঁদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই হওয়া উচিত, তাঁদের একজন হলেন বীরপ্রতীক তারামন বিবি। সাহস, ত্যাগ, এবং দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক এই নারীর জীবন ও অবদান আজও জাতির কাছে প্রেরণার উৎস হলেও, তাঁকে ঘিরে ইতিহাসের নিঃসঙ্গতা আমাদের ব্যথিত করে।

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া তারামন বিবির জীবন ছিল এক সংগ্রামী কাব্য। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের রান্না করা, অস্ত্র পরিবহন ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক অপরাজেয় যোদ্ধা। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব। তবে, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও তাঁর নামটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা প্রশ্নবিদ্ধ।

তার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি: গতকাল, ১ ডিসেম্বর ২০২৪, ছিল বীর প্রতীক তারামন বিবির মৃত্যুবার্ষিকী। রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছোট পরিসরে তাঁর কবরে দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বড় আয়োজন দেখা যায়নি। দুঃখজনকভাবে, এই মহান নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে এতটাই সীমিত আকারে আয়োজন করা হয়, যা জাতি হিসেবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

যে তারামন বিবি একাত্তরে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন, তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দিতে না পারা আমাদের জাতীয় দায়বদ্ধতার প্রতি উদাসীনতার পরিচায়ক।

শংকর মাধবপুরের বধ্যভূমি যা এখন হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি: তারামন বিবির জন্মস্থান শংকর মাধবপুর শুধু একজন নারী মুক্তিযোদ্ধারই পরিচায়ক নয়, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়াবহ গণহত্যার সাক্ষী। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা এই গ্রামে নির্মম গণহত্যা চালিয়েছিল, যা শংকর মাধবপুরকে একটি বধ্যভূমিতে পরিণত করে। কিন্তু এই বধ্যভূমির স্মৃতি আজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি স্মৃতিফলক স্থাপনের মাধ্যমে এই বধ্যভূমির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

জাতীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন: বীর প্রতীক তারামন বিবির অবদান জাতির জন্য অবিস্মরণীয় হলেও, তাঁর প্রতি আমাদের রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা লক্ষণীয়। তাঁর নামে আজও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। নেই কোনো গবেষণা কেন্দ্র বা স্মৃতিসৌধ। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান তুলে ধরার জন্য এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নিচে এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক দাবি উপস্থাপন করা হলো:

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা: তারামন বিবির নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হোক। এই প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।
  • শংকর মাধবপুর বধ্যভূমির স্মৃতিফলক: শংকর মাধবপুর বধ্যভূমিতে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ করে সেই গণহত্যার ভয়াবহ ইতিহাসকে চিরস্মরণীয় করা উচিত।
  • জাতীয় স্মারক দিবস: বীর প্রতীক তারামন বিবির জন্ম বা মৃত্যুদিন জাতীয়ভাবে স্মরণ করা হোক। এটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে।
  • পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি: তারামন বিবি এবং অন্যান্য নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের গল্প পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ জাগাবে।
  • চলচ্চিত্র বা ডকুমেন্টারি: তারামন বিবির জীবনী নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে তরুণ প্রজন্ম তাঁর জীবন ও সংগ্রামের গল্প জানতে পারবে।
  • বার্ষিক স্মরণ ও পুরস্কার প্রদান: তাঁর নামে একটি বার্ষিক পুরস্কার প্রবর্তন করা যেতে পারে, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের জন্য প্রদান করা হবে।

তারামন বিবি স্মরণে আমাদের করণীয়: বীর প্রতীক তারামন বিবি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। তাঁর জীবনের বীরত্বের কাহিনি কেবল গর্বের নয়, এটি আমাদের জাতীয় দায়বদ্ধতারও স্মারক। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হলে আমাদের এখনই উদ্যোগী হতে হবে।

তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে তারামন বিবি ও তার মতো মুক্তিযোদ্ধারা চিরজাগ্রত থাকবেন, যদি আমরা তাদের বীরত্বের কাহিনি বুকে ধারণ করে সেই চেতনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এ কাজটি শুধু দায়িত্ব নয়, আমাদের জাতিগত ঋণ।

বীর প্রতীক তারামন বিবি আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের গর্ব। তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা নিজেকেই সম্মানিত করি। বিজয়ের মাসে বীরপ্রতীক তারামন বিবির প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদনই হোক আমাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রেরণা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর


Kurigram Songbad © 2025. All Rights Reserved.
Built with care by Pixel Suggest
error: Content is protected !!