1. atik@kurigramsongbad.com : atik :
  2. editor1@kurigramsongbad.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
  3. sifat@kurigramsongbad.com : sifat :
  4. siteaccess@pixelsuggest.com : কুড়িগ্রাম সংবাদ :
সাম্প্রতিক :
জলাবদ্ধতায় অচল চরনেওয়াজী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাল নোট দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাদক কেনার চেষ্টা, আটক ১ ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ভ্যানের সিটের নিচে ১৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা, আটক ২ গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে ফোন, গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি শূন্যরেখায় ১৭ দিন অবস্থানের পর রাতের অন্ধকারে উধাও তিন তরুণ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বঞ্চিত তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ সুবিধা প্রদান রংপুরে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী প্রসারে ইএসডিও’র লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশনে কুড়িগ্রামের তরুণী রংপুরে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী প্রসারে ইএসডিও’র লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে উলিপুরের বিখ্যাত ক্ষিরমহোন

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি: 

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশে সারি সারি মিষ্টির দোকান চোখে পড়ে। সাইনবোর্ডে ১ নম্বর পাবনা ভাগ্যলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডার, বনফুল মিষ্টান্ন ভান্ডার,আসল পাবনা মিষ্টান্ন অ্যান্ড দধিঘর, ওকে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, পাবনা মিষ্টান্ন অ্যান্ড দধিঘর, , পাবনা মিষ্টান্ন ভান্ডার—এমন অনেক নাম। তবে দোকানগুলোতে নেই তেমন কোনো বাহারি সাজসজ্জা। এসব দোকানে তৈরি হয় সুস্বাদু ‘ক্ষীরমোহন’ মিষ্টি।

উলিপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ‘ক্ষীরমোহন’ ক্ষীর ও মোহনের সংমিশ্রণে তৈরি। ক্ষীর হলো মিষ্টির রস। গরুর দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে এর সঙ্গে নানা পদের মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই রস। স্থানীয়ভাষায় মিষ্টির এই রসকে বলা হয় ক্ষীর । অন্য দিকে মোহন বলতে মিষ্টির সাদা অংশকে বোঝানো হয়। দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ছানা তৈরি করে নিয়ে এর সঙ্গে পরিমাণমতো চিনি ও সামান্য ময়দা মিশিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। এরপর চিনির শিরায় ডুবিয়ে আগুনের আঁচে জ্বাল দিতে হয়। পরে ক্ষীরের মধ্যে ডুবিয়ে সামান্য জ্বাল দিলেই তৈরি হয় ক্ষীরমোহন। দুধ যত খাঁটি হবে, ক্ষীরমোহন তত ভালো হবে—সুস্বাদু ক্ষীরমোহনের এটাই প্রকৃত রহস্য। উলিপুরের প্রবীণ মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সুধীর সরকার উলিপুরে এসে মিষ্টি ব্যবসায়ী কছির মিয়ার দোকানে কারিগর হিসেবে চাকরি নেন। সে সময় তিনি প্রথম ক্ষীরমোহন তৈরি করেন। অল্পদিনেই তাঁর এই মিষ্টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দেখাদেখি অনেকেই এই মিষ্টি বানাতে শুরু করেন।

ক্ষীরমহোন পাওয়া যায় এমন দোকানগুলোর মধ্যে ‘ওকে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ তুলনামূলক পুরোনো। এটির প্রতিষ্ঠাতা শামসুল আলম জানান, স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে এখানে ক্ষীরমোহন খান। প্যাকেটে করে বাসার জন্য নিয়ে যান। সৌদি আরব,কুয়েত,ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীরা সেখানে যাওয়ার সময় ক্ষীরমোহন নিয়ে যান। এছাড়াও প্রায়ই ইউরোপ,আমিরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ক্ষীরমহোন এর অর্ডার আসে। আসল পাবনা মিষ্টান্ন অ্যান্ড দধিঘর’–এর যাত্রা ৩৫ বছর আগে। অল্প সময়েই এ দোকানের ক্ষীরমোহনের স্বাদ মানুষের মন ভুলিয়েছে। এই দোকানের মালিক হরিপদ ঘোষ বলেন, আগে সিরাজগঞ্জে তাঁদের পূর্বপুরুষদের দইয়ের ব্যবসা ছিল। ১৯৮৮ সালে তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুরে এসে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। এক কেজি ক্ষীরমোহন তৈরি করতে সাড়ে তিন কেজি দুধ লাগে। তাই গরুর দুধের দামের ওপর ক্ষীরমোহনের বাজারমূল্য ওঠানামা করে। বর্তমানে এক কেজি ক্ষীরমোহন ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। দৈনিক গড়ে ক্ষীরমোহন ৩০ কেজি, অন্যান্য মিষ্টি ২০ থেকে ৩০ কেজি বিক্রি হয়।উপজেলার হাতিয়া থেকে ক্ষীরমোহন কিনতে এসেছেন শরীফ উদ্দীন (৩০)। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করে, কুড়িগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম কী? আমি একবাক্যে বলব—উলিপুরের ক্ষীরমোহন। উলিপুর উপজেলা শহরে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন আসতে হয়। যখনই আসি, একটি হলেও ক্ষীরমোহন খাই। কলেজে পড়ার সময় এমনও দিন গেছে, দুপুরে ভাতের টাকায় ক্ষীরমোহন খেয়েছি।’

কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে ঈদ, পূজা, বিয়ে বা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়ন ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রিয় নাম ‘ক্ষীরমোহন’।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর


Kurigram Songbad © 2025. All Rights Reserved.
Built with care by Pixel Suggest
error: Content is protected !!