মিজানুর রহমান মিজান, চিলমারী ,কুড়িগ্রাম:
উজানের ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের ফলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। এই পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত থেকে আসা ব্রহ্মপুত্র নদ ও দুধকুমর নদীতে ভেসে আসছে হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রবল স্রোতে সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে এসব গাছ উপড়ে বা কেটে রাখা অবস্থায় ভেসে এসেছে।
সোমবার ভোররাত থেকে ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্নস্থানে এই গাছের গুঁড়ি ভেসে আসতে দেখা যায়। নদী তীরবর্তী মানুষজন নৌকা ও দড়ির সাহায্যে এসব গাছ নদী থেকে টেনে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে এই দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভেসে আসা গাছের মধ্যে অধিকাংশই ছিল কেটে রাখা গুঁড়ি, আবার কিছু গাছ শেকড়সহ উপড়ে এসেছে। তীব্র স্রোতের কারণেই এমনটি ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গাছগুলো ভুটান থেকে জয়গা এলাকা হয়ে ভারতের হাসিমারা বনাঞ্চল (হাসিমারা ফরেস্ট) থেকে ভেসে আসতে পারে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দারাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, কালজানী নদীর উজানে হাসিমারা বনাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট তীব্র স্রোতে বনাঞ্চলের গাছপালা উপড়ে গিয়ে নদীতে ভেসে যাচ্ছে। ভুটান ও ভারতের কোচবিহার জেলা হয়ে কালজানী নদী এবং আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদে গাছের গুঁড়ি প্রবেশ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়েকুব, রাজ্জাক, মমিনুল, নুরুজ্জামান বলেন, ভোর থেকে নদীতে গাছ ভেসে যেতে দেখে এলাকার মানুষজন যে যেভাবে পাচ্ছে তা আটকিয়ে নদী তীরে নিয়ে আসছে। কেউ আস্তো গাছের গুরি আবার কেউ খড়ি ধরছে। মাঝে মধ্যে শিকর বাকরসহ গাছ ভেসে আসছে। আবার কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা মনে করছেন।
রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আঁকা বলেন, ভোর রাত থেকে নদী পাড়ের মানুষজন খড়ি ধরতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। নদী তীরবর্তি অনেক মানুষ তাদের ছয়মাস একবছরের খড়ি ধরতে সক্ষম হয়েছে। আবার অনেকে খড়ি ধরে তীরেই বিক্রি করছেন।
Leave a Reply