কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার দুই হিন্দু তরুণীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে নাগেশ্বরী উপজেলায়। ধর্মান্তরের পর মুফতি ফেরদৌসের বাসায় পুলিশের অভিযান ও সেখানে “মহিলাদের পর্দা লঙ্ঘন” সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় নাগেশ্বরী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড মসজিদের দ্বিতীয় তলার ক্যাডেট মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা নাগেশ্বরী।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আলেম সমাজের প্রতিনিধি মুফতি আতাউর রহমান বিক্রমপুরী। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম ও বিশিষ্ট আলেমগণ।
সংবাদ সম্মেলনে মুফতি আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, “মুফতি ফেরদৌস সাহেবের বাসায় পুলিশ যখন অভিযান চালায়, তখন তাদের সঙ্গে সিভিল পোশাকধারী হাতে লাল সুতা বাঁধা কিছু ব্যক্তি ছিলেন। তারা পর্দাশীল মহিলাদের ঘরে ঢুকে পড়েন, যা আমাদের ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘন করে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সময় আমি ভিডিও ধারণ করেছি, তবে প্রমাণ স্বরূপ ভিডিও এখনই প্রকাশ করছি না।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুফতি আতাউর রহমান বলেন, অভিযুক্ত দুই তরুণীর ইসলাম গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মুফতি ফেরদৌস কিছু সহযোগিতা করেছেন, তবে তা ছিল সম্পূর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। ধর্মান্তর প্রক্রিয়া লালমনিরহাট আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মুফতির বাসায় পুলিশ ছাড়াও ইসকনের সদস্য পরিচয়ে ২৫-৩০ জন ব্যক্তি হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যদিও এই অভিযোগের নিরপেক্ষ কোনো প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়নি।
এ সময় বক্তারা বলেন, “আমরা এই ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। দুর্গাপূজার সময় হিন্দু সম্প্রদায় যেন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা সহনশীলতা বজায় রাখছি। তবে পূজা শেষে যদি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হয়, তাহলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম, মুহতামিম, জামিয়া হামিউস সুন্নাহ কেরামতিয়া, নাগেশ্বরী, মুফতি আব্দুল হান্নান, মুহতামিম, চন্ডিপুর কওমি মাদ্রাসা,মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সান্জুয়ারভিটা কওমি মাদ্রাসা, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা, মুফতি নজরুল ইসলাম, মনিরচর কওমি মাদ্রাসা, মুফতি ফেরদৌস, মুহতামিম, সাবিলুর রশাদ মাদ্রাসা, প্রমুখ।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, “রাজারহাট থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল, আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তা করেছি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।”
প্রসঙ্গত, ধর্মান্তরের ঘটনায় ইতিমধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিলেও, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সক্রিয় রয়েছে।
Leave a Reply