কুড়িগ্রাম সংবাদ ডেস্ক:
নীলফামারীর উত্তরা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম হাবিব ইসলাম (২১)। তিনি ওই ইপিজেডের ইকো কোম্পানির শ্রমিক এবং সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজিরহাট গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইপিজেডের একটি কারখানা বন্ধের ঘোষণা ঘিরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় গুলিতে হাবিব ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
আহতদের নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং পুরো ইপিজেড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রমিকদের দাবি, গত শনিবার থেকে তারা মোট ২৩ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে—জেনারেল ম্যানেজারের পদত্যাগ, পুরাতন শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, পূর্বের লেঅফ পদ্ধতি চালু, নামাজের সময় নিশ্চিত করা, স্যালারি কার্ড বাতিল এবং পুরাতন শ্রমিকদের পুনর্বহালসহ একাধিক দাবি।
ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ইপিজেড এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হলেও ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
নারী শ্রমিক আখি আক্তার বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের মতো সকালে অফিসে গিয়ে দেখি গেট বন্ধ, সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে আছে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমরা নারী শ্রমিকরা পড়ে যাচ্ছিলাম, কেউ খোঁজ নেয়নি। কোনো ক্ষতি না করেও সাধারণ শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানো হলো কেন? সেনাবাহিনী কোন অনুমতিতে গুলি চালালো, তা জানতে চাই।’
ঘটনা তদন্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বিস্তারিত জানার অপেক্ষা করছে সবাই।
Leave a Reply