অনলাইন ডেস্ক:
চলতি বছরের আগস্ট মাসে সারাদেশে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৪৩ জন। ওই মাসে ৩৮টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এর আগের মাস জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৫১টি। এছাড়া জুলাই মাসে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৬।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) আগস্ট মাসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) এমএসএফের গণমাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়।
সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি।
তারা জানায়, নিহতদের মধ্যে ১০ জনকে চুরির অভিযোগ, ৪ জনকে সন্দেহজনক চুরির অভিযোগ, ৩ জনকে ডাকাতির অভিযোগ, ১ নারীসহ ২ জনকে পূর্বশত্রুতার জেরে, ১ জন মাদক মামলায় অভিযুক্ত, ২ জনকে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ও ১ জনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে হত্যার ঘটনা ঘটে।
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে আক্রান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ১ জন হত্যা এবং ৩৬ জন সাংবাদিক আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৩ জন সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আহত ও হামলার শিকার হয়েছেন। লাঞ্ছনা ও হুমকির শিকার হয়েছেন ১৬ জন সাংবাদিক এবং ২০ জন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মানহানির মামলা।
এছাড়া আগস্ট মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৯টি ঘটনার শিকার হয়েছেন ৫৪৯ জন। তাদের মধ্যে দুজন নিহত এবং ৫৪৭ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ জন গুলিবিদ্ধ এবং নিহত ব্যক্তিরা বিএনপির কর্মী-সমর্থক। সহিংসতার ৪৯টি ঘটনার মধ্যে ১১টি ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ এবং সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিকাণ্ড এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সহিংসতার ৩৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ২৩টি, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ৫টি, এনসিপি-আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্বে ২টি, বিএনপি-এনসিপি দ্বন্দ্বে ১টি, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২টি, আওয়ামী লীগ-জামায়াত সংঘর্ষে ১টি, আওয়ামী লীগ-গণপরিষদ ১টি, জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের ২টি, গণ অধিকার পরিষদ-পুলিশের ১টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
Leave a Reply