কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রাণের টানে কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়ছোঁয়া ঈদ পুনর্মিলনী। আজ বুধবার, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, কুড়িগ্রাম শাখা এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে জেলার নানা প্রান্ত থেকে শত শত নবীন ও প্রবীণ অ্যালামনাই অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের মুখোমুখি হয়ে আবেগে ভেসেছেন সবাই। পরিচয়ের পুরোনো বন্ধন আবারো নতুন করে বাঁধা পড়েছে মধুর স্মৃতিচারণে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা ও মুক্ত আলোচনায় উঠে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা সুখস্মৃতি। কেউ স্মরণ করেন মহুয়া-আমলিচুর বাগান, কেউ টুকিটাকি ক্যান্টিন, আবার কেউ প্যারিস রোডে হেঁটে যাওয়া সন্ধ্যার কথা। এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“রোকেয়া, মন্নুজান আর তাপসী রাবেয়া হলের সামনে আমরা দল বেঁধে যে আড্ডা দিতাম, তা আজও চোখে ভাসে। রাতের আকাশে চাঁদ দেখা আর মহুয়া ফুলের ঘ্রাণে হারিয়ে যেতাম মুহূর্তেই।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা শুধু স্মৃতিচারণই করেননি, তারা নিজেদের ক্যারিয়ার, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পও ভাগাভাগি করেছেন। কেউ হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা, কেউ শিক্ষক, কেউবা সমাজসেবী—তবে সবাই এক নামেই পরিচিত, ‘রাবি প্রাক্তনী’।
এই মিলনমেলা ছিল কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়—এটি ছিল হৃদয়ের গভীরে লুকানো একটি পরিচয়ের, একটি চেতনার নবজাগরণ। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বন্ধন মজবুত করে। পাশাপাশি এটি মতিহারের মানবিক চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার অনন্য মাধ্যম।
সবার কণ্ঠেই ছিল একটিই প্রত্যাশা—এই ধারা যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা এমনভাবেই বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও একটি বন্ধনে গাঁথা থাকেন।
Leave a Reply