কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ডায়রিয়া ও মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুড়িগ্রাম জেনারেল ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। এতে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫২৮ জন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বেশি।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ ৫৩ জন ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি জ্বর নিয়ে বর্তমানে ৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, পৌর শহরের একতা পাড়া এলাকার ৮ মাস বয়সী শিশু মোছা. জান্নাতি আক্তার হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। উলিপুর থেকে আসা রোগীর স্বজন আব্দুল জলিল (৫৫) বলেন, “সদর হাসপাতালে এলে মনে হয় রোগীর সঙ্গে আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এখানে থাকার মতো পরিবেশ নেই, অস্বাস্থ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে।”
রোগীদের মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রবিউল ইসলাম বলেন, “তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিলাম, তাই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।” রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁ এলাকা থেকে আসা রাশেদ মিয়াও জানান, তার মেয়েও গত সাত দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। ওষুধ ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।”
তিনি আরও জানান, জনসচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া ও জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
Leave a Reply