নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম:
বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসবভাতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে অবিরাম কর্মবিরতি পালন করছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী জেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় সকাল থেকে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বেসরকারি শিক্ষকদের সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটি রোববার থেকে এ আন্দোলন শুরু করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহরের খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলারাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রিভার ভিউ হাই স্কুল, কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদরাসা, এমএ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়, বেলগাছা বরকতিয়া হাই স্কুল ও কুড়িগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা সকাল ১০টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি, প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেন।
প্রতিবাদ সভায় শিক্ষকরা বলেন,
“শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। অথচ তাদের ওপর নির্যাতন করা লজ্জাজনক ও অমানবিক।”
তারা শিক্ষক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি মো. আব্দুল মালেক বলেন,
“শিক্ষক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমাদের পুরো শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ন্যায্য দাবি আদায় না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”
আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাই বলেন,
“শিক্ষক নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ও ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে ক্লাসে ফিরবো না।”
অন্যদিকে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে জেনেছি। আমরা চাই শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে আসুক। সরকার শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে সদয় আছেন, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতির কারণে জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়,
“ক্লাস বন্ধ থাকায় আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। একই বোর্ড, একই সিলেবাসে পড়েও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য থাকা অযৌক্তিক।”
Leave a Reply