কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
মাত্র ২৯ কিলোমিটার রেলপথ, কিন্তু এই অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা! কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী পর্যন্ত চলাচলকারী একমাত্র লোকাল ট্রেনটি ধীরগতিতে চলার পাশাপাশি নিয়মিত দেরি করায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।
কুড়িগ্রাম-রমনা রেলরুটে পাঁচটি স্টেশন কুড়িগ্রাম, পাঁচপীর, উলিপুর, বালাবাড়ী ও রমনা থাকলেও কোথাও নেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় গড়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার, যা পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়া ব্যাটারিচালিত যানবাহনের তুলনায় অনেক ধীর। দীর্ঘদিনের অবহেলা, রেললাইনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এই অবস্থার জন্য দায়ী।
রমনা স্টেশনে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয় একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, “আগে এই লাইনে তিন জোড়া ট্রেন চলত। এখন কখন ট্রেন আসবে কেউ জানে না। তবুও ট্রেনটাই আমাদের একমাত্র সাশ্রয়ী বাহন বলে অপেক্ষা করি।”
চিলমারী নদীবন্দরকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে রেলপথ উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও, তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২১ সালে একটি প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি হলেও এখনও কার্যকর কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ মনে করে, অবিলম্বে রেললাইন সংস্কার, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত সময় মেনে চলাচল নিশ্চিত না হলে এই রুট সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে। তাদের দাবি, কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথ আধুনিকায়নের মাধ্যমে শুধু ভোগান্তি দূর হবে না, বরং এতে খুলে যাবে অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এলাকাবাসীর আহ্বান অবহেলিত এই রুটে নজর দিন, কার্যকর পদক্ষেপ নিন, যাতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
Leave a Reply