মাইদুল ইসলাম মামুন, নাগেশ্বরী :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তরুণ সংগঠক অনন্যা খাতুন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ১৩ অক্টোবর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিতব্য South Asian Regional Forum on Ending Child Marriage–এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর ইসলামের কন্যা অনন্যা। স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক ও অধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত এই তরুণীর আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ নাগেশ্বরীসহ কুড়িগ্রামের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আসমানি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের Space to Lead Project–এর আওতায় ফোরামটিতে অংশ নেবেন অনন্যা। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তরুণদের ভূমিকা, কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাবেন তিনি।
অনন্যা কুড়িগ্রামের মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০২২ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার, মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন অনন্যা।
তিনি Alliance for Rights Women Organization (ARWO)–এর প্রতিষ্ঠাতা। এ সংগঠনের মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন তিনি।
কুড়িগ্রামের মতো বন্যা, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন অনন্যা।
কাঠমান্ডুর আঞ্চলিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগ, অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কার্যকর কৌশল সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের বাস্তবতা, কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে পারবেন।
অনন্যা খাতুন বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা নয়, প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, পরিবারের সহযোগিতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ।”
তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
নাগেশ্বরীর সন্তোষপুর ইউনিয়ন থেকে উঠে আসা অনন্যা খাতুনের এই আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। তাঁর এই অংশগ্রহণ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক উন্নয়নে অন্য তরুণদেরও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
Leave a Reply