দুর্জয় হাসান, কচাকাটা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের চর বেগুনি পাড়ার এক মেধাবী কিশোর মোঃ মোকাররম বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করছে। মাত্র ১২ বছর বয়সে হালকা চুলকানি দিয়ে শুরু হওয়া রোগটি ধীরে ধীরে তার পুরো দেহে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় তার স্বাভাবিক জীবন ও শিক্ষা।
মোকাররমের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। তার বাবা মোঃ কোরবান আলী পেশায় দিনমজুর এবং মা বাহার উদ্দিন ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বড় ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের এই কঠিন পরিস্থিতিতে মোকাররমকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কুড়িগ্রাম এবং পরবর্তীতে ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শতাধিক চিকিৎসকের চেষ্টার পরও নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০১৬ সালে এক অগ্নিকাণ্ডে তার চিকিৎসার সব নথিপত্রও পুড়ে যায়।
মোকাররমের রোগ এতটাই বিরল যে বর্তমানে বিশ্বে মাত্র ৩০০ জন এই রোগে আক্রান্ত, আর বাংলাদেশে মোকাররমই একমাত্র রোগী। তিনি ঠিকমতো বসতে বা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন না এবং শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ায় কষ্ট পান। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোগ আংশিক শনাক্ত হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোকাররমের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে সে চিকিৎসার জন্য দেশবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। ভিডিওটি দেখে রশিদ মণ্ডল যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ মে মোকাররমের বাড়িতে যান। তিনি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নগদ ৬,০০০ টাকা প্রদান করেন এবং পরিবারকে আশ্বস্ত করেন, দীর্ঘমেয়াদে ফাউন্ডেশন তার পাশে থাকবে।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক আলী, মানবিক সংগঠক লাভলু, গ্রীন ভয়েস নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি মাইদুল ইসলাম মামুন এবং প্রথম টিভির পরিচালক মুহতাসিম বিল্লাহ। এলাকাবাসী রশিদ মণ্ডল যুব ফাউন্ডেশনের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মোকাররমের চিকিৎসা ও জীবনযাপনের জন্য একটি স্থায়ী সহায়তা তহবিল গঠনের আহ্বান জানান।
যোগাযোগ: মোকাররমের পরিবারের নম্বর: 01719-163638
Leave a Reply